ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক সুবিধায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য

নিজস্ব সংবাদ :

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) সই হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রেও শুল্কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকারণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনো তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবেই তা বেড়েছে। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক সুবিধায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য

আপডেট সময় ০৬:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) সই হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রেও শুল্কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকারণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনো তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবেই তা বেড়েছে। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।