ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদুল্লাহ হলের এজিএসের কক্ষ নিয়ে বিতর্ক: ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা, সিট স্থগিত ও তদন্ত শুরু

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ফটকছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষকে ঘিরে এক বিতর্কিত ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর কক্ষে অবস্থান করা দুই অতিথিকে আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

হল প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ভিডিও ঘিরে আলোচনা

শনিবার সন্ধ্যার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুই তরুণকে নিজেদের আচরণ নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের হুমকি দেওয়া হলে তাঁরা ক্ষমা চান—এমন কথাও বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই ওই দুই অতিথিকে কক্ষে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাঁদের কাছ থেকে বক্তব্য নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইব্রাহীম খলিলের বক্তব্য

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহীম খলিল বলেন, ঘটনাটি তাঁর কক্ষে ঘটলেও আগে থেকে তিনি কিছু জানতেন না এবং এতে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার প্রয়োজনে অতিথিরা কয়েক দিনের জন্য সেখানে ছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন।

কল রেকর্ড নিয়ে নতুন আলোচনা

ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড শেয়ার করেন। সেখানে একজন অতিথিকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা ভুল পথে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিলেন, তবে পুরো ঘটনা ঘটার আগেই রুমমেট তাঁদের দেখে ফেলেন। একই রেকর্ডে ইব্রাহীম খলিলকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিতে শোনা যায়।

প্রশাসনের অবস্থান

শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এজিএসের সিট স্থগিত থাকবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৌকির হাসান বলেন, এজিএস ও তাঁর রুমমেট—উভয়ের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। সব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক পরিচয়ও আলোচনায়

ইব্রাহীম খলিল ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস পদে নির্বাচিত হন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাতে বিক্ষোভ মিছিল

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তাঁরা হলের পুকুরপাড়ে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি এখন ক্যাম্পাসের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শহীদুল্লাহ হলের এজিএসের কক্ষ নিয়ে বিতর্ক: ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা, সিট স্থগিত ও তদন্ত শুরু

আপডেট সময় ০১:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষকে ঘিরে এক বিতর্কিত ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর কক্ষে অবস্থান করা দুই অতিথিকে আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

হল প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ভিডিও ঘিরে আলোচনা

শনিবার সন্ধ্যার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুই তরুণকে নিজেদের আচরণ নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের হুমকি দেওয়া হলে তাঁরা ক্ষমা চান—এমন কথাও বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই ওই দুই অতিথিকে কক্ষে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাঁদের কাছ থেকে বক্তব্য নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইব্রাহীম খলিলের বক্তব্য

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহীম খলিল বলেন, ঘটনাটি তাঁর কক্ষে ঘটলেও আগে থেকে তিনি কিছু জানতেন না এবং এতে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার প্রয়োজনে অতিথিরা কয়েক দিনের জন্য সেখানে ছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন।

কল রেকর্ড নিয়ে নতুন আলোচনা

ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড শেয়ার করেন। সেখানে একজন অতিথিকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা ভুল পথে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিলেন, তবে পুরো ঘটনা ঘটার আগেই রুমমেট তাঁদের দেখে ফেলেন। একই রেকর্ডে ইব্রাহীম খলিলকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিতে শোনা যায়।

প্রশাসনের অবস্থান

শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এজিএসের সিট স্থগিত থাকবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৌকির হাসান বলেন, এজিএস ও তাঁর রুমমেট—উভয়ের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। সব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক পরিচয়ও আলোচনায়

ইব্রাহীম খলিল ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস পদে নির্বাচিত হন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাতে বিক্ষোভ মিছিল

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তাঁরা হলের পুকুরপাড়ে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি এখন ক্যাম্পাসের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।