ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ বিতর্কে শিল্পী মেজবাহ রহমান: শিক্ষিকার রিল নিয়ে এত কঠোরতা কেন?

নিজস্ব সংবাদ :

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে এক স্কুলশিক্ষিকার রিল ভিডিও ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে তৈরি হওয়া আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জনপ্রিয় বর্ষার গান শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে–এর শিল্পী এবং ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান। তিনি মনে করেন, ভিডিওটিতে আপত্তিকর বা নেতিবাচক কিছু নেই; তাই এটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন হবে না।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজবাহ রহমান বলেন, গানটি মূলত প্রকৃতি, বৃষ্টি ও বর্ষার আবহকে ধারণ করে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে গানটির সুর ও কথা তৈরি হয় এবং ১৯৯০ সালে এটি প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গানটির জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিকমাধ্যমে এই গানটি নানা অনুভূতি ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সময়ের সঙ্গে মানুষের আবেগের নতুন প্রকাশ।

সম্প্রতি ফেঞ্চুগঞ্জের শিক্ষিকা বিউটি পাল এই গান ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য শুরু হয়। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। পরে তার সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল তৈরি করে তার প্রতি সংহতি জানান।

শিক্ষকদের প্রতি সমাজের বিশেষ সম্মান রয়েছে উল্লেখ করে মেজবাহ রহমান বলেন, শিক্ষকরা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সামনে কিছু মূল্যবোধ ও আচরণগত বিষয় মেনে চলেন। তবে একটি সাধারণ রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে যেভাবে সমালোচনা ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ভিডিওটিতে তিনি কোনো অনৈতিক বা নেতিবাচক উপাদান খুঁজে পাননি এবং কেন এটিকে এত বড় বিতর্কে পরিণত করা হলো, তা তার বোধগম্য নয়।

সামাজিকমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন এই শিল্পী। তার মতে, এখন ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রকাশ—সব ক্ষেত্রেই সামাজিকমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই কোনো ঘটনার একটিমাত্র দিক দেখে কাউকে দোষারোপ করা উচিত নয়; বরং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।

এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে পুরো ঘটনাকে শাস্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে সহনশীলতা ও সংযমের সঙ্গে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন মেজবাহ রহমান। তার মতে, এটি এমন কোনো ভিডিও নয় যা একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক ও নমনীয়ভাবে বিবেচনা করবে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ বিতর্কে শিল্পী মেজবাহ রহমান: শিক্ষিকার রিল নিয়ে এত কঠোরতা কেন?

আপডেট সময় ০৩:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে এক স্কুলশিক্ষিকার রিল ভিডিও ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে তৈরি হওয়া আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জনপ্রিয় বর্ষার গান শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে–এর শিল্পী এবং ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান। তিনি মনে করেন, ভিডিওটিতে আপত্তিকর বা নেতিবাচক কিছু নেই; তাই এটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন হবে না।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজবাহ রহমান বলেন, গানটি মূলত প্রকৃতি, বৃষ্টি ও বর্ষার আবহকে ধারণ করে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে গানটির সুর ও কথা তৈরি হয় এবং ১৯৯০ সালে এটি প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গানটির জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিকমাধ্যমে এই গানটি নানা অনুভূতি ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সময়ের সঙ্গে মানুষের আবেগের নতুন প্রকাশ।

সম্প্রতি ফেঞ্চুগঞ্জের শিক্ষিকা বিউটি পাল এই গান ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য শুরু হয়। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। পরে তার সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল তৈরি করে তার প্রতি সংহতি জানান।

শিক্ষকদের প্রতি সমাজের বিশেষ সম্মান রয়েছে উল্লেখ করে মেজবাহ রহমান বলেন, শিক্ষকরা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সামনে কিছু মূল্যবোধ ও আচরণগত বিষয় মেনে চলেন। তবে একটি সাধারণ রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে যেভাবে সমালোচনা ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ভিডিওটিতে তিনি কোনো অনৈতিক বা নেতিবাচক উপাদান খুঁজে পাননি এবং কেন এটিকে এত বড় বিতর্কে পরিণত করা হলো, তা তার বোধগম্য নয়।

সামাজিকমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন এই শিল্পী। তার মতে, এখন ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রকাশ—সব ক্ষেত্রেই সামাজিকমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই কোনো ঘটনার একটিমাত্র দিক দেখে কাউকে দোষারোপ করা উচিত নয়; বরং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।

এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে পুরো ঘটনাকে শাস্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে সহনশীলতা ও সংযমের সঙ্গে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন মেজবাহ রহমান। তার মতে, এটি এমন কোনো ভিডিও নয় যা একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক ও নমনীয়ভাবে বিবেচনা করবে।