দেশ বদলাতে চাইলে আগে বদলাতে হবে মানুষকে”— সন্দেহ, সমালোচনা আর স্বার্থপরতার সমাজ নিয়ে আফজাল হোসেনের আবেগঘন বার্তা
দেশের সামাজিক বাস্তবতা, মানুষের মানসিকতা এবং ইতিবাচক অর্জনের প্রতি উদাসীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেতা ও পরিচালক আফজাল হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—চারপাশে যখন সন্দেহ, অসন্তুষ্টি, স্বার্থপরতা আর পরনিন্দার সংস্কৃতি এতটাই প্রবল, তখন দেশের প্রকৃত উন্নতি কীভাবে সম্ভব?
তিনি লিখেছেন, মানুষের মধ্যে ভালো খবরকে স্বাগত জানানোর প্রবণতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বরং অন্যের ব্যর্থতা, সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক সংবাদ নিয়েই যেন বেশি আগ্রহ দেখা যায়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে গর্ব অনুভব করার পরিবর্তে অনেকেই সেখানে খুঁত খুঁজে বের করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
আফজাল হোসেনের মতে, বর্তমানে সমাজে এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই নিজেকে বিচারকের আসনে বসিয়ে অন্যের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অবিশ্বাস ছড়ানো এবং অযাচিত সমালোচনাকে অনেকেই যেন স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গ্রহণ করছেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একটি একক সংগীতানুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়ার পরও অনেক পরিচিত মানুষ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, শিল্পী সত্যিই গান গাইবেন, নাকি কেবল ঠোঁট মিলিয়ে পরিবেশন করবেন। এমন প্রশ্নকে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর প্রতি অযৌক্তিক সন্দেহ ও অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়েও মানুষের একাংশের নেতিবাচক মনোভাবের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক উৎসবে স্বীকৃতি পেলে কিংবা বাংলাদেশের কেউ বিশ্বমঞ্চে কৃতিত্ব অর্জন করলে অনেকেই সেই সাফল্যকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না। বরং এর পেছনে অযথা ষড়যন্ত্র বা অনৈতিক প্রভাব খুঁজে বেড়ানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের গৌরবময় অর্জনগুলো অনেক সময় মানুষের কাছে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে, কারণ সমাজ এখন চটকদার, বিতর্কিত এবং উত্তেজনাকর খবরের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। ফলে ইতিবাচক ঘটনাগুলো প্রয়োজনীয় সম্মান পায় না।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে আফজাল হোসেন মনে করিয়ে দেন, কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন বা নেতৃত্ব বদলালেই একটি দেশের সার্বিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন মানুষের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ এবং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। তাঁর ভাষায়, দেশকে বদলাতে হলে সবার আগে বদলাতে হবে দেশের মানুষকেই।
























