ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার সঙ্গে হাত মেলাই না’—রুনা লায়লার মজার ব্যাখ্যায় হাসিতে ভাসল পুরো মিলনায়তন

নিজস্ব সংবাদ :

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা শুধু তার সুরেলা কণ্ঠের জন্যই নন, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব চমৎকার রসবোধের জন্যও সমান জনপ্রিয়। এবারও একক সংগীতানুষ্ঠানের মঞ্চে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় দর্শকদের হাসিতে মাতিয়ে দিলেন উপমহাদেশের এই প্রখ্যাত শিল্পী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় রুনা লায়লার বহুল প্রতীক্ষিত একক সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা, নির্মাতা চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আফজাল হোসেনকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান রুনা লায়লা। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। এরপর দুজনের করমর্দনের মুহূর্তেই আসে চমক।

হাস্যরসের ছলে রুনা লায়লা বলেন, আমি কিন্তু সবার সঙ্গে হাত মেলাই না। কারণ, আমার আংটিগুলো যদি কেউ হঠাৎ করে নিয়ে যায়!’

তার এমন মন্তব্যে মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে যায় পুরো মিলনায়তনে। পরে আবার মুচকি হেসে যোগ করেন, তবে উনি (আফজাল হোসেন) নিরাপদ। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত রসিকতায় দর্শকেরা করতালিতে ফেটে পড়েন।

রুনা লায়লার হাতে থাকা হীরার আংটির সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের কৌতূহল রয়েছে। জানা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে করাচিতে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি ডায়মন্ডের আংটি দিয়ে শুরু হয়েছিল তার সংগ্রহ। পরে সংগীতজীবনের বিভিন্ন সময়ে নিজের পছন্দে আরও অনেক মূল্যবান আংটি যুক্ত করেছেন তিনি। মঞ্চে তার গানের পাশাপাশি এসব আংটিও বরাবরই দর্শকদের নজর কেড়েছে।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, জীবনে কিছু মানুষ আছেন যারা সময়ের সঙ্গে ম্লান হন না, বরং বিস্ময় হয়ে বেঁচে থাকেন। তার ভাষায়, রুনা লায়লা সেই বিরল মানুষদের একজন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুর দিকের একটি স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুতে প্রথমবার দূর থেকে রুনা লায়লাকে দেখার অনুভূতি এখনও তার মনে অমলিন।

রুনা লায়লাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, অনেক তারকার জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে কমে যায়, কিন্তু রুনা লায়লা চার দশক আগের মতোই আজও সমান উজ্জ্বল। তিনি সত্যিকার অর্থেই আকাশের তারকার মতো দীপ্তিমান।

গান, ব্যক্তিত্ব, রসবোধ এবং মঞ্চে অনন্য উপস্থিতির মধ্য দিয়ে রুনা লায়লা আবারও প্রমাণ করলেনসময়ের সীমানা পেরিয়েও তিনি দর্শকদের ভালোবাসা মুগ্ধতার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সবার সঙ্গে হাত মেলাই না’—রুনা লায়লার মজার ব্যাখ্যায় হাসিতে ভাসল পুরো মিলনায়তন

আপডেট সময় ০৩:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা শুধু তার সুরেলা কণ্ঠের জন্যই নন, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব চমৎকার রসবোধের জন্যও সমান জনপ্রিয়। এবারও একক সংগীতানুষ্ঠানের মঞ্চে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় দর্শকদের হাসিতে মাতিয়ে দিলেন উপমহাদেশের এই প্রখ্যাত শিল্পী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় রুনা লায়লার বহুল প্রতীক্ষিত একক সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা, নির্মাতা চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আফজাল হোসেনকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান রুনা লায়লা। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। এরপর দুজনের করমর্দনের মুহূর্তেই আসে চমক।

হাস্যরসের ছলে রুনা লায়লা বলেন, আমি কিন্তু সবার সঙ্গে হাত মেলাই না। কারণ, আমার আংটিগুলো যদি কেউ হঠাৎ করে নিয়ে যায়!’

তার এমন মন্তব্যে মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে যায় পুরো মিলনায়তনে। পরে আবার মুচকি হেসে যোগ করেন, তবে উনি (আফজাল হোসেন) নিরাপদ। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত রসিকতায় দর্শকেরা করতালিতে ফেটে পড়েন।

রুনা লায়লার হাতে থাকা হীরার আংটির সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের কৌতূহল রয়েছে। জানা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে করাচিতে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি ডায়মন্ডের আংটি দিয়ে শুরু হয়েছিল তার সংগ্রহ। পরে সংগীতজীবনের বিভিন্ন সময়ে নিজের পছন্দে আরও অনেক মূল্যবান আংটি যুক্ত করেছেন তিনি। মঞ্চে তার গানের পাশাপাশি এসব আংটিও বরাবরই দর্শকদের নজর কেড়েছে।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, জীবনে কিছু মানুষ আছেন যারা সময়ের সঙ্গে ম্লান হন না, বরং বিস্ময় হয়ে বেঁচে থাকেন। তার ভাষায়, রুনা লায়লা সেই বিরল মানুষদের একজন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুর দিকের একটি স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুতে প্রথমবার দূর থেকে রুনা লায়লাকে দেখার অনুভূতি এখনও তার মনে অমলিন।

রুনা লায়লাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, অনেক তারকার জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে কমে যায়, কিন্তু রুনা লায়লা চার দশক আগের মতোই আজও সমান উজ্জ্বল। তিনি সত্যিকার অর্থেই আকাশের তারকার মতো দীপ্তিমান।

গান, ব্যক্তিত্ব, রসবোধ এবং মঞ্চে অনন্য উপস্থিতির মধ্য দিয়ে রুনা লায়লা আবারও প্রমাণ করলেনসময়ের সীমানা পেরিয়েও তিনি দর্শকদের ভালোবাসা মুগ্ধতার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন।