ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন, ফেরার আগের দিনই মুক্তি পাচ্ছে ‘নির্বাসিত’

নিজস্ব সংবাদ :

প্রায় দুই দশক পর আবারও কলকাতার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে নানা বিতর্ক ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়ার পর আগামী ১ আগস্ট তিনি কলকাতায় ফিরছেন। দীর্ঘদিন পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিমহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি মৌলবাদবিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তসলিমা। কলকাতার রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি নিজের কবিতাও পাঠ করবেন।

তবে তাঁর এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে আরেকটি ঘটনা। কলকাতায় ফেরার একদিন আগে, ৩১ জুলাই, আবারও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত চলচ্চিত্র ‘নির্বাসিত’। ২০১৪ সালে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি ছবিতে তসলিমার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।

চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তসলিমা নাসরিনের জীবন, তাঁর একাকিত্ব এবং প্রিয় পোষ্য বিড়াল ‘মিনু’র সঙ্গে বিচ্ছেদের আবেগঘন অধ্যায়কে ঘিরে। নির্বাসনের মানসিক চাপ, নিঃসঙ্গতা এবং মানুষ ও প্রাণীর গভীর সম্পর্ক ছবির অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ছবিটির পুনর্মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর ভাষ্য, তসলিমার জীবনের দুই বড় নির্বাসনের অভিজ্ঞতা—বাংলাদেশ ছাড়ার বেদনা এবং পরবর্তীতে কলকাতা থেকে চলে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল অনুপ্রেরণা। বাস্তবতার ছোঁয়া আনতে ছবির বেশ কিছু দৃশ্য সেই সব স্থানেই ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে নিরাপত্তাজনিত কারণে একসময় তসলিমাকে রাখা হয়েছিল।

চূর্ণীর মতে, এবার কলকাতায় ফিরে নিজের জীবনভিত্তিক এই চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখার সুযোগ পাওয়া তসলিমা নাসরিনের জন্যও একটি বিশেষ মুহূর্ত। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি সিনেমার পুনর্মুক্তি নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক ধরনের প্রতীকী প্রত্যাবর্তন।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর যে শহর থেকে একসময় বিদায় নিতে হয়েছিল, সেই কলকাতাতেই এবার নিজের নির্বাসনের গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দেখবেন তসলিমা নাসরিন। ফলে তাঁর এই সফর এবং ‘নির্বাসিত’-এর পুনর্মুক্তি—দুটি ঘটনাই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন, ফেরার আগের দিনই মুক্তি পাচ্ছে ‘নির্বাসিত’

আপডেট সময় ০৩:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রায় দুই দশক পর আবারও কলকাতার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে নানা বিতর্ক ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়ার পর আগামী ১ আগস্ট তিনি কলকাতায় ফিরছেন। দীর্ঘদিন পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিমহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি মৌলবাদবিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তসলিমা। কলকাতার রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি নিজের কবিতাও পাঠ করবেন।

তবে তাঁর এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে আরেকটি ঘটনা। কলকাতায় ফেরার একদিন আগে, ৩১ জুলাই, আবারও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত চলচ্চিত্র ‘নির্বাসিত’। ২০১৪ সালে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি ছবিতে তসলিমার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।

চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তসলিমা নাসরিনের জীবন, তাঁর একাকিত্ব এবং প্রিয় পোষ্য বিড়াল ‘মিনু’র সঙ্গে বিচ্ছেদের আবেগঘন অধ্যায়কে ঘিরে। নির্বাসনের মানসিক চাপ, নিঃসঙ্গতা এবং মানুষ ও প্রাণীর গভীর সম্পর্ক ছবির অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ছবিটির পুনর্মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর ভাষ্য, তসলিমার জীবনের দুই বড় নির্বাসনের অভিজ্ঞতা—বাংলাদেশ ছাড়ার বেদনা এবং পরবর্তীতে কলকাতা থেকে চলে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল অনুপ্রেরণা। বাস্তবতার ছোঁয়া আনতে ছবির বেশ কিছু দৃশ্য সেই সব স্থানেই ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে নিরাপত্তাজনিত কারণে একসময় তসলিমাকে রাখা হয়েছিল।

চূর্ণীর মতে, এবার কলকাতায় ফিরে নিজের জীবনভিত্তিক এই চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখার সুযোগ পাওয়া তসলিমা নাসরিনের জন্যও একটি বিশেষ মুহূর্ত। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি সিনেমার পুনর্মুক্তি নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক ধরনের প্রতীকী প্রত্যাবর্তন।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর যে শহর থেকে একসময় বিদায় নিতে হয়েছিল, সেই কলকাতাতেই এবার নিজের নির্বাসনের গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দেখবেন তসলিমা নাসরিন। ফলে তাঁর এই সফর এবং ‘নির্বাসিত’-এর পুনর্মুক্তি—দুটি ঘটনাই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।