ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েলো অ্যাপারেলস ঋণ কেলেঙ্কারি: ৪১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্তে জনতা ব্যাংকের আরও ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুদকে তলব

নিজস্ব সংবাদ :

ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে কথিত কাগুজে রপ্তানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলমান তদন্তে জনতা ব্যাংকের আরও সাতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি পাঠানো নোটিশে আগামী ১৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কমিশনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তলবকৃতদের মধ্যে ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন একটি তদন্ত দল।

এর আগে একই অভিযোগের বিষয়ে গত ১৬ জুলাই জনতা ব্যাংকের আরও ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

৪১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ভাই এস এফ রহমান, তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নবগঠিত প্রতিষ্ঠান ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সুবিধাসহ বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করা হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভুয়া আমদানি-রপ্তানির কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের মধ্যেই Accommodation Bill ব্যবহার করে লেনদেন দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের দাবি।

মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও একাধিক স্তরে লেনদেন (লেয়ারিং) করে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, গত দেড় দশকে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন সালমান এফ রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে নৌপথে পালানোর চেষ্টা করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইয়েলো অ্যাপারেলস ঋণ কেলেঙ্কারি: ৪১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্তে জনতা ব্যাংকের আরও ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুদকে তলব

আপডেট সময় ০৩:১৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে কথিত কাগুজে রপ্তানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলমান তদন্তে জনতা ব্যাংকের আরও সাতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি পাঠানো নোটিশে আগামী ১৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কমিশনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তলবকৃতদের মধ্যে ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন একটি তদন্ত দল।

এর আগে একই অভিযোগের বিষয়ে গত ১৬ জুলাই জনতা ব্যাংকের আরও ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

৪১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ভাই এস এফ রহমান, তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নবগঠিত প্রতিষ্ঠান ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সুবিধাসহ বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করা হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভুয়া আমদানি-রপ্তানির কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের মধ্যেই Accommodation Bill ব্যবহার করে লেনদেন দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের দাবি।

মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও একাধিক স্তরে লেনদেন (লেয়ারিং) করে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, গত দেড় দশকে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন সালমান এফ রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে নৌপথে পালানোর চেষ্টা করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।