ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড গুয়াম, ৩৫০ কিমি বেগের দমকা হাওয়ায় চরম সতর্কতা

নিজস্ব সংবাদ :

প্রশান্ত মহাসাগরের যুক্তরাষ্ট্র-অধিভুক্ত গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ভয়াবহ শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। দুর্যোগটির কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রবল বাতাস, অস্বাভাবিক উচ্চতার ঢেউ এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (এনডব্লিউএস) তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার, আর দমকা হাওয়ার গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকায় প্রাণ ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার (৩৫ ফুট) পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় জনপদ ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সাইপান ও রোটা দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের প্রাথমিক আঘাতেই বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে উদ্ধার ও জরিপ কার্যক্রম চলছে।

দুর্যোগের আগাম সতর্কতা পাওয়ার পর গুয়ামের হাজারো মানুষ শেষ মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ও নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে চলে যান। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরের আগে ঝড়টির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা খুবই কম।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (JTWC) আনুষ্ঠানিকভাবে বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ এলাকায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও একই অঞ্চলে সুপার টাইফুন সিনলাকু আঘাত হেনেছিল। সেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বাভির তাণ্ডবের মুখে পড়েছে দ্বীপাঞ্চল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশেষ করে এল নিনো-এর প্রভাবে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা আগের তুলনায় বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড গুয়াম, ৩৫০ কিমি বেগের দমকা হাওয়ায় চরম সতর্কতা

আপডেট সময় ০২:৩৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরের যুক্তরাষ্ট্র-অধিভুক্ত গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ভয়াবহ শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। দুর্যোগটির কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রবল বাতাস, অস্বাভাবিক উচ্চতার ঢেউ এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (এনডব্লিউএস) তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার, আর দমকা হাওয়ার গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকায় প্রাণ ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার (৩৫ ফুট) পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় জনপদ ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সাইপান ও রোটা দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের প্রাথমিক আঘাতেই বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে উদ্ধার ও জরিপ কার্যক্রম চলছে।

দুর্যোগের আগাম সতর্কতা পাওয়ার পর গুয়ামের হাজারো মানুষ শেষ মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ও নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে চলে যান। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরের আগে ঝড়টির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা খুবই কম।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (JTWC) আনুষ্ঠানিকভাবে বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ এলাকায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও একই অঞ্চলে সুপার টাইফুন সিনলাকু আঘাত হেনেছিল। সেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বাভির তাণ্ডবের মুখে পড়েছে দ্বীপাঞ্চল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশেষ করে এল নিনো-এর প্রভাবে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা আগের তুলনায় বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি