ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিজারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, ৬ মাস পর মৃত্যু

কাগজের খবর ডেস্ক:

প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার ঘটনায় ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সিজারিয়ান সেকশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে ৬১ কেজি ওজনের বিথীর ওজন কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে। নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

জেলা প্রশাসক এবং তিনি এর আগে বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে দেখেছেন বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সিজারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, ৬ মাস পর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার ঘটনায় ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সিজারিয়ান সেকশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে ৬১ কেজি ওজনের বিথীর ওজন কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে। নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

জেলা প্রশাসক এবং তিনি এর আগে বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে দেখেছেন বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।