ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবিলা নূরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক! দাম্পত্যে দূরত্বের গুঞ্জন, ডিওপি মামুনকে নিয়ে তিশার বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :

ঢালিউড ও টেলিভিশন অঙ্গনে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের নাম। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আলাদা থাকার গুঞ্জন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে নির্মাণসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিক আয়োজনে নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাবিলা নূর। সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বিচ্ছেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও দম্পতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্যের সত্যতা নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন।

‘রকস্টার’ সিনেমাকে ঘিরে নতুন আলোচনা

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি (ডিওপি) আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলা নূরের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কাজের সূত্রে গড়ে ওঠা পরিচয় পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কে রূপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি সিনেমাটির শুটিং চলাকালে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইউনিটের ভেতরে আলোচনা ছিল বলে কিছু সূত্র দাবি করেছে। পরিস্থিতির কারণে প্রযোজনা পক্ষ মামুনকে পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিয়ের ১০ দিন আগে সম্পর্ক ভাঙার অভিযোগ তিশার

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিশা নামের এক তরুণী। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া তিশার অভিযোগ, ডিওপি আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের বিয়ের দিনও নির্ধারিত হয়েছিল ১৫ মে।

তিশার দাবি, ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগে মামুন হঠাৎ করেই বিয়েতে অসম্মতি জানান। তাঁকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি বলে অভিযোগ তিশার।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মামুনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সাবিলা নূরের জানা ছিল। এ কারণে অভিনেত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিশার অভিযোগ, একজন নারী হিসেবে তাঁর পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত ছিল সাবিলার। তবে তিশার এসব বক্তব্য এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে; এ বিষয়ে সাবিলা নূর বা আবদুল মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পিছিয়ে দেওয়া বিয়ের তারিখই কি হয়ে উঠল কাল?

তিশা আরও দাবি করেছেন, আবদুল মামুনের পেশাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই একসময় বিয়ের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কই ভেঙে যাওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি।

তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলেও মামুনের প্রতি আবেগের কারণে তিনি তাতে সম্মতি দেননি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তুতির পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও দাবি করেছেন।

শাকিব খানকে ঘিরে ছড়ানো গুঞ্জন কতটা সত্য?

সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা শাকিব খানের নামও জড়িয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে এসব আলোচনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। ফলে শাকিব খানকে ঘিরে ছড়ানো দাবিগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে আবদুল মামুনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি আর প্রমাণিত তথ্য যে এক বিষয় নয়, তা মনে রাখা জরুরি।

পরিচালকের বক্তব্য, নীরব সাবিলা ও নেহাল

বিতর্কের বিষয়ে ‘রকস্টার’ সিনেমার পরিচালক আজমান রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের এবং ডিওপি আবদুল মামুন—কারও পক্ষ থেকেই আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে জল্পনা এবং তিশার অভিযোগ ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আসা জরুরি। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এসব দাবিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করাই শ্রেয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাবিলা নূরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক! দাম্পত্যে দূরত্বের গুঞ্জন, ডিওপি মামুনকে নিয়ে তিশার বিস্ফোরক অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৩১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢালিউড ও টেলিভিশন অঙ্গনে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের নাম। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আলাদা থাকার গুঞ্জন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে নির্মাণসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিক আয়োজনে নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাবিলা নূর। সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বিচ্ছেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও দম্পতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্যের সত্যতা নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন।

‘রকস্টার’ সিনেমাকে ঘিরে নতুন আলোচনা

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি (ডিওপি) আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলা নূরের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কাজের সূত্রে গড়ে ওঠা পরিচয় পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কে রূপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি সিনেমাটির শুটিং চলাকালে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইউনিটের ভেতরে আলোচনা ছিল বলে কিছু সূত্র দাবি করেছে। পরিস্থিতির কারণে প্রযোজনা পক্ষ মামুনকে পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিয়ের ১০ দিন আগে সম্পর্ক ভাঙার অভিযোগ তিশার

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিশা নামের এক তরুণী। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া তিশার অভিযোগ, ডিওপি আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের বিয়ের দিনও নির্ধারিত হয়েছিল ১৫ মে।

তিশার দাবি, ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগে মামুন হঠাৎ করেই বিয়েতে অসম্মতি জানান। তাঁকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি বলে অভিযোগ তিশার।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মামুনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সাবিলা নূরের জানা ছিল। এ কারণে অভিনেত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিশার অভিযোগ, একজন নারী হিসেবে তাঁর পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত ছিল সাবিলার। তবে তিশার এসব বক্তব্য এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে; এ বিষয়ে সাবিলা নূর বা আবদুল মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পিছিয়ে দেওয়া বিয়ের তারিখই কি হয়ে উঠল কাল?

তিশা আরও দাবি করেছেন, আবদুল মামুনের পেশাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই একসময় বিয়ের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কই ভেঙে যাওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি।

তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলেও মামুনের প্রতি আবেগের কারণে তিনি তাতে সম্মতি দেননি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তুতির পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও দাবি করেছেন।

শাকিব খানকে ঘিরে ছড়ানো গুঞ্জন কতটা সত্য?

সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা শাকিব খানের নামও জড়িয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে এসব আলোচনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। ফলে শাকিব খানকে ঘিরে ছড়ানো দাবিগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে আবদুল মামুনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি আর প্রমাণিত তথ্য যে এক বিষয় নয়, তা মনে রাখা জরুরি।

পরিচালকের বক্তব্য, নীরব সাবিলা ও নেহাল

বিতর্কের বিষয়ে ‘রকস্টার’ সিনেমার পরিচালক আজমান রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের এবং ডিওপি আবদুল মামুন—কারও পক্ষ থেকেই আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে জল্পনা এবং তিশার অভিযোগ ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আসা জরুরি। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এসব দাবিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করাই শ্রেয়।