শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অধীর রাজবংশী, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখার সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের হাতে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ থাকলেও হিসাব যাচাই করে ওই টাকার কোনো হদিস মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অভিযোগ ওঠার পর গত তিন দিন ধরে ওই কর্মকর্তা ব্যাংকে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গ্রাহকের হিসাবেই প্রায় দেড় কোটি টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে আরও শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি তাঁদের। সব মিলিয়ে অভিযোগের পরিমাণ ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রাহকরা। তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ যাচাই ও অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট গ্রাহক ও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত নয়।
অভিযুক্ত শরিফুজ্জামান সোহাগ শ্রীনগর শাখায় সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি পঞ্চগড়ে এবং তিনি ঢাকার শ্যামলীতে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য শরিফুজ্জামান সোহাগের কাছে টাকা দেওয়ার পর তাঁরা ব্যাংকের রসিদ পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, জমা দেওয়া অর্থ তাঁদের হিসাবে নেই। বিষয়টি জানতে ব্যাংকে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
বেজগাঁও এলাকার জুথি আক্তার বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে সাত লাখ টাকা জমা দিয়েছি। টাকা তুলতে ব্যাংকে এসে জানতে পারি, আমার হিসাবে ওই টাকা জমা হয়নি।
বারিগাঁও এলাকার জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তাঁর সাত লাখ টাকা হিসাবে নেই। আড়িয়লপাড়ার নাছির হাওলাদার বলেন, তিনি ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরে হিসাব যাচাই করে ওই টাকার কোনো অস্তিত্ব পাননি।
নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর সমন্দি বাহাদুরের ৮১ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী রুজিনা বেগমের ২৭ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যাংকে এসে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে ওই টাকা নেই।
গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের মতো আরও অন্তত শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে শরিফুজ্জামান সোহাগ ব্যাংকে অনুপস্থিত থাকায় এবং তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অডিট ও যাচাই শেষে কতজন গ্রাহকের টাকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এবং মোট অর্থের পরিমাণ কত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আতিকুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, এটি সরকারি ব্যাংক। বৈধ রসিদ যাঁদের আছে, তাঁরা সবাই টাকা পাবেন। কারও টাকা মার যাবে না। এখন কতজন গ্রাহক এবং কত টাকা অডিট শেষ হলে তা বলতে পারব।’
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাছিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তাঁরা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এটি সরকারি ব্যাংক, তাই গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সমস্যা হবে না। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

























