ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীত আসার আগেই ফাটছে ঠোঁট? অবহেলা নয়, জেনে নিন যত্নের সহজ উপায়

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের আগমনী বার্তা আসতে না আসতেই অনেকের ঠোঁটে দেখা দিচ্ছে শুষ্কতা, চামড়া ওঠা ও ফাটলের সমস্যা। কারও ক্ষেত্রে ঠোঁটের কোণে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, আবার কারও ঠোঁটে অনুভূত হচ্ছে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি। আবহাওয়ার পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ হলেও পর্যাপ্ত পানি পান না করা, বারবার ঠোঁট চাটা কিংবা কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারেও এ সমস্যা বাড়তে পারে। তাই শীত জেঁকে বসার আগেই ঠোঁটের যত্নে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঠোঁটের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা এবং এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারায়। সময়মতো যত্ন না নিলে শুষ্ক ঠোঁটে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

যে কারণে শীতের আগেই ঠোঁট ফাটছে

আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ঠোঁটের ওপর। এতে ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে।

বারবার ঠোঁট চাটার অভ্যাস: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নেন। কিন্তু লালা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁটের আর্দ্রতা আরও কমে যায়। ফলে শুষ্কতা ও ফাটলের সমস্যা বাড়তে পারে।

শরীরে পানির ঘাটতি: প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব ঠোঁটেও পড়তে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটলেই পানিশূন্যতা হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা: লিপস্টিক, লিপবাম কিংবা টুথপেস্টের কিছু উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে জ্বালা, লালচে ভাব বা শুষ্কতা বাড়লে সেটি ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতি: আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল ধরার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এমন লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা ছাড়া পুষ্টির ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না।

ত্বকের সমস্যা ও সংক্রমণ: দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটা, চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণও দায়ী হতে পারে।

ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার করুন: ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগানো উপকারী।

২. ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং উঠে আসা চামড়া টেনে তোলার অভ্যাস পরিহার করুন। এতে ঠোঁটে ক্ষত তৈরি ও প্রদাহ বাড়তে পারে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি ঠোঁটের বাইরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিপবাম ব্যবহার করুন।

৪. রোদ থেকেও ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখুন: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগান।

৫. জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি কিংবা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত কিছু প্রসাধনী ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া হলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের সমস্যা না কমলে, দীর্ঘদিন ধরে ফাটল থাকলে কিংবা তীব্র ব্যথা, প্রদাহ ও ক্ষত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল ধরলেও এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

শীতের শুরুতেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দিলেও তা অবহেলা করার প্রয়োজন নেই। সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার এবং ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করলে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শীত আসার আগেই ফাটছে ঠোঁট? অবহেলা নয়, জেনে নিন যত্নের সহজ উপায়

আপডেট সময় ০৪:২৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের আগমনী বার্তা আসতে না আসতেই অনেকের ঠোঁটে দেখা দিচ্ছে শুষ্কতা, চামড়া ওঠা ও ফাটলের সমস্যা। কারও ক্ষেত্রে ঠোঁটের কোণে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, আবার কারও ঠোঁটে অনুভূত হচ্ছে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি। আবহাওয়ার পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ হলেও পর্যাপ্ত পানি পান না করা, বারবার ঠোঁট চাটা কিংবা কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারেও এ সমস্যা বাড়তে পারে। তাই শীত জেঁকে বসার আগেই ঠোঁটের যত্নে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঠোঁটের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা এবং এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারায়। সময়মতো যত্ন না নিলে শুষ্ক ঠোঁটে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

যে কারণে শীতের আগেই ঠোঁট ফাটছে

আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ঠোঁটের ওপর। এতে ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে।

বারবার ঠোঁট চাটার অভ্যাস: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নেন। কিন্তু লালা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁটের আর্দ্রতা আরও কমে যায়। ফলে শুষ্কতা ও ফাটলের সমস্যা বাড়তে পারে।

শরীরে পানির ঘাটতি: প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব ঠোঁটেও পড়তে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটলেই পানিশূন্যতা হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা: লিপস্টিক, লিপবাম কিংবা টুথপেস্টের কিছু উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে জ্বালা, লালচে ভাব বা শুষ্কতা বাড়লে সেটি ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতি: আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল ধরার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এমন লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা ছাড়া পুষ্টির ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না।

ত্বকের সমস্যা ও সংক্রমণ: দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটা, চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণও দায়ী হতে পারে।

ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার করুন: ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগানো উপকারী।

২. ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং উঠে আসা চামড়া টেনে তোলার অভ্যাস পরিহার করুন। এতে ঠোঁটে ক্ষত তৈরি ও প্রদাহ বাড়তে পারে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি ঠোঁটের বাইরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিপবাম ব্যবহার করুন।

৪. রোদ থেকেও ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখুন: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগান।

৫. জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি কিংবা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত কিছু প্রসাধনী ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া হলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের সমস্যা না কমলে, দীর্ঘদিন ধরে ফাটল থাকলে কিংবা তীব্র ব্যথা, প্রদাহ ও ক্ষত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল ধরলেও এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

শীতের শুরুতেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দিলেও তা অবহেলা করার প্রয়োজন নেই। সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার এবং ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করলে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।