ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের হার

কাগজের খবর ডেস্ক:

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের হার

ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই ব্যর্থতা, বোলিংয়েও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত চার দিনের বেশি টিকতে পারল না স্বাগতিকরা। বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী দল। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাল টাইগাররা।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। জবাবে নাঈম হাসানসহ বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। এতে ২৭ রানের মূল্যবান লিড পায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা দলটি শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ১৪২ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। ফলে ক্যারিবীয়দের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। তাদের ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।

ইনিংসের ২১তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে লেগ স্টাম্প উপড়ে গেলে ভাঙে ক্যাম্পবেলের প্রতিরোধ। ৫৫ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অল্পের জন্য ফিফটি না পাওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচের পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা ব্র্যান্ডন কিংও একবার জীবন পান। ৪৪ রানে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের বলেই চার মেরে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার।

এদিকে ক্যাচ ছাড়ার সময় আঙুলে চোট পান শান্ত। পরে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তার অনুপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য দলের নেতৃত্ব সামলান মেহেদী হাসান মিরাজ।

ক্যাম্পবেল ফেরার পর অবশ্য দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে মাত্র ১ রানে তাইজুল ইসলামের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান মাহমুদ। তবে ততক্ষণে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই শেষ করেন ব্র্যান্ডন কিং। ১১৫ বলে ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হজ ২৭ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ইনিংসের ৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই জয়সূচক রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান করে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন ১৮ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম হাসান একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন। তার ৫২ রানের লড়াকু ইনিংসেই কিছুটা সম্মানজনক সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

তবে নাঈমের একক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দলকে বড় পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ব্যাটিংয়ের দুই ইনিংসের ব্যর্থতা আর দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় চার দিনের মধ্যেই টেস্টে হার মানতে হলো বাংলাদেশকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের হার

আপডেট সময় ০৫:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই ব্যর্থতা, বোলিংয়েও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত চার দিনের বেশি টিকতে পারল না স্বাগতিকরা। বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী দল। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাল টাইগাররা।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। জবাবে নাঈম হাসানসহ বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। এতে ২৭ রানের মূল্যবান লিড পায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা দলটি শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ১৪২ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। ফলে ক্যারিবীয়দের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। তাদের ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।

ইনিংসের ২১তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে লেগ স্টাম্প উপড়ে গেলে ভাঙে ক্যাম্পবেলের প্রতিরোধ। ৫৫ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অল্পের জন্য ফিফটি না পাওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচের পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা ব্র্যান্ডন কিংও একবার জীবন পান। ৪৪ রানে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের বলেই চার মেরে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার।

এদিকে ক্যাচ ছাড়ার সময় আঙুলে চোট পান শান্ত। পরে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তার অনুপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য দলের নেতৃত্ব সামলান মেহেদী হাসান মিরাজ।

ক্যাম্পবেল ফেরার পর অবশ্য দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে মাত্র ১ রানে তাইজুল ইসলামের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান মাহমুদ। তবে ততক্ষণে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই শেষ করেন ব্র্যান্ডন কিং। ১১৫ বলে ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হজ ২৭ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ইনিংসের ৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই জয়সূচক রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান করে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন ১৮ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম হাসান একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন। তার ৫২ রানের লড়াকু ইনিংসেই কিছুটা সম্মানজনক সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

তবে নাঈমের একক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দলকে বড় পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ব্যাটিংয়ের দুই ইনিংসের ব্যর্থতা আর দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় চার দিনের মধ্যেই টেস্টে হার মানতে হলো বাংলাদেশকে।