ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: চার সিঁড়িতে তালা, মৃত্যুর ঘটনায় ভিন্ন তথ্য; তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব সংবাদ :

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিই ঘটনার সময় তালাবদ্ধ ছিল বলে সরেজমিনে জানা গেছে। ফলে আগুন ও ধোঁয়ার আতঙ্কে রোগী-স্বজনদের বড় অংশকে একটি সিঁড়ি দিয়েই নিচে নামার চেষ্টা করতে হয়।

এ ঘটনায় পদদলিত হয়ে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। বিষয়টি তদন্তে মঙ্গলবার সকালে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি

সোমবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক সূত্র থেকে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর আসে। তবে এ তথ্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার কাছে চারজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলেও তিনি জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বাকি দুজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আতঙ্কের মধ্যে একটি সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বের হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জন মারা গেছেন।

চার সিঁড়ি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ

মঙ্গলবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটি বন্ধ ছিল। আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে গিয়ে এসব সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে একটি সিঁড়িকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়।

নিহত রমজান আলীর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, তার ভাই আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। চারতলা থেকে লোকজনের সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

তার অভিযোগ, পাঁচটি সিঁড়ির চারটি বন্ধ এবং লিফট অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

কুলসুমার মৃত্যু

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া কুলসুমা (৩৫) ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কুলসুমার ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীন হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় চিকিৎসাধীন ছিল। আগুনের পর ঘন ধোঁয়া ওই তলায় পৌঁছালে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কুলসুমা ছেলে স্বাধীন ও মেয়ে মীমকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ তলা থেকে চারতলার দিকে আসার সময় তিনি সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। গুরুতর অবস্থায় তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার সকালে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক আঙিনায় তাকে দাফন করা হয়েছে।

শাহাজাহান মনিরের পরিবারের দাবি

অন্যদিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহাজাহান মনিরও এ ঘটনায় মারা যান। তিনি পল্লিচিকিৎসক ছিলেন এবং প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি ছিলেন।

তার পরিবারের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় লিফটে আগুন লাগার পর স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় মানুষের ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান শাহাজাহান। পরে পদদলিত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

শাহাজাহানের স্ত্রী হারিসা বেগম জানান, সিঁড়িতে নামার সময় কয়েক ধাপের মধ্যেই তারা পড়ে যান। পরে তিনি জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফেরার পর চারপাশে কান্নাকাটি ও হইচই দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভিড়ের চাপে শাহাজাহানের মৃত্যু হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সিঁড়ি বন্ধ

চারটি সিঁড়ি কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল—এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সিঁড়িগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তবে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্ধ থাকা চারটি সিঁড়ি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডের সময় সিঁড়িগুলো বন্ধ থাকা এবং লিফট কার্যকর না থাকায় রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেটিও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

লিফট থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক ধারণা

অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে লিফটের কন্ট্রোল বোর্ড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অংশে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, অতিরিক্ত তাপের কারণে ওই অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে লিফটের ক্যাবলের মাধ্যমে আগুন ওপর থেকে নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালের সবগুলো সিঁড়ি খোলা থাকলে রোগী ও স্বজনদের দ্রুত ও নিরাপদে ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ বেশি থাকত।

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, ময়মনসিংহ সিটি প্রশাসক রুকনোজ্জামান, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, সিঁড়িগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এবং হতাহতের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: চার সিঁড়িতে তালা, মৃত্যুর ঘটনায় ভিন্ন তথ্য; তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় ০২:৩২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিই ঘটনার সময় তালাবদ্ধ ছিল বলে সরেজমিনে জানা গেছে। ফলে আগুন ও ধোঁয়ার আতঙ্কে রোগী-স্বজনদের বড় অংশকে একটি সিঁড়ি দিয়েই নিচে নামার চেষ্টা করতে হয়।

এ ঘটনায় পদদলিত হয়ে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। বিষয়টি তদন্তে মঙ্গলবার সকালে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি

সোমবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক সূত্র থেকে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর আসে। তবে এ তথ্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার কাছে চারজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলেও তিনি জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বাকি দুজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আতঙ্কের মধ্যে একটি সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বের হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জন মারা গেছেন।

চার সিঁড়ি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ

মঙ্গলবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটি বন্ধ ছিল। আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে গিয়ে এসব সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে একটি সিঁড়িকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়।

নিহত রমজান আলীর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, তার ভাই আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। চারতলা থেকে লোকজনের সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

তার অভিযোগ, পাঁচটি সিঁড়ির চারটি বন্ধ এবং লিফট অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

কুলসুমার মৃত্যু

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া কুলসুমা (৩৫) ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কুলসুমার ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীন হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় চিকিৎসাধীন ছিল। আগুনের পর ঘন ধোঁয়া ওই তলায় পৌঁছালে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কুলসুমা ছেলে স্বাধীন ও মেয়ে মীমকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ তলা থেকে চারতলার দিকে আসার সময় তিনি সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। গুরুতর অবস্থায় তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার সকালে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক আঙিনায় তাকে দাফন করা হয়েছে।

শাহাজাহান মনিরের পরিবারের দাবি

অন্যদিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহাজাহান মনিরও এ ঘটনায় মারা যান। তিনি পল্লিচিকিৎসক ছিলেন এবং প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি ছিলেন।

তার পরিবারের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় লিফটে আগুন লাগার পর স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় মানুষের ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান শাহাজাহান। পরে পদদলিত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

শাহাজাহানের স্ত্রী হারিসা বেগম জানান, সিঁড়িতে নামার সময় কয়েক ধাপের মধ্যেই তারা পড়ে যান। পরে তিনি জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফেরার পর চারপাশে কান্নাকাটি ও হইচই দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভিড়ের চাপে শাহাজাহানের মৃত্যু হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সিঁড়ি বন্ধ

চারটি সিঁড়ি কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল—এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সিঁড়িগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তবে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্ধ থাকা চারটি সিঁড়ি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডের সময় সিঁড়িগুলো বন্ধ থাকা এবং লিফট কার্যকর না থাকায় রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেটিও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

লিফট থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক ধারণা

অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে লিফটের কন্ট্রোল বোর্ড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অংশে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, অতিরিক্ত তাপের কারণে ওই অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে লিফটের ক্যাবলের মাধ্যমে আগুন ওপর থেকে নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালের সবগুলো সিঁড়ি খোলা থাকলে রোগী ও স্বজনদের দ্রুত ও নিরাপদে ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ বেশি থাকত।

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, ময়মনসিংহ সিটি প্রশাসক রুকনোজ্জামান, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, সিঁড়িগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এবং হতাহতের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।