ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চর কুকরি-মুকরি : পর্যটনে অপার সম্ভাবনার হাতছানি

কাগজের খবর ডেস্ক:

চর কুকরি-মুকরি

বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন, সাগরের জলরাশি, নদী, খাল, দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ‎ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি। কোলাহলমুক্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই দ্বীপে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের আগমন। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে চর কুকরি-মুকরি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

‎চরফ্যাশন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত চর কুকরি-মুকরি। স্থানীয়দের কাছে ‘দ্বীপকন্যা’ হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন, নদী-খাল, সমুদ্রসৈকত ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। সবুজ প্রকৃতি ও নিরিবিলি পরিবেশের কারণে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্থানটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর ও কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। বন ও আশপাশের এলাকায় চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বনবিড়াল ও বনমোরগসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন এ অঞ্চলের সৌন্দর্যে যোগ করে নতুন মাত্রা। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ নারকেল বাগান। ম্যানগ্রোভ বন পেরিয়ে নারকেল বাগানে পৌঁছালে চোখে পড়ে বিস্তৃত জলরাশি ও খোলা আকাশ। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা ও ক্যাম্পিংয়ের জন্য স্থানটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

‎চর কুকরি-মুকরির আরেকটি বড় আকর্ষণ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ তারুয়া সৈকত। দিগন্তবিস্তৃত সমুদ্র, নির্জন সৈকত ও সবুজ বন একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ থাকায় দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

‎পর্যটকদের জন্য রয়েছে একটি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে চারপাশের বন, নদী ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পাশাপাশি কালিরচর, তারুয়া ও ঢালচরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। অনেকে রাত কাটাতে সাগরপাড়ে তাঁবু টানিয়ে ক্যাম্পিংও করেন।

‎পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি চর কুকরি-মুকরিতে ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়। তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ নৌযান, আবাসন, খাবারের ব্যবস্থা, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও বিনোদন সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

‎স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে চর কুকরি-মুকরি শুধু ভোলার নয়, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত হতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে। তবে পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে চর কুকরি-মুকরি হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও টেকসই পর্যটন স্থান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চর কুকরি-মুকরি : পর্যটনে অপার সম্ভাবনার হাতছানি

আপডেট সময় ০৭:০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন, সাগরের জলরাশি, নদী, খাল, দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ‎ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি। কোলাহলমুক্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই দ্বীপে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের আগমন। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে চর কুকরি-মুকরি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

‎চরফ্যাশন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত চর কুকরি-মুকরি। স্থানীয়দের কাছে ‘দ্বীপকন্যা’ হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন, নদী-খাল, সমুদ্রসৈকত ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। সবুজ প্রকৃতি ও নিরিবিলি পরিবেশের কারণে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্থানটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর ও কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। বন ও আশপাশের এলাকায় চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বনবিড়াল ও বনমোরগসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন এ অঞ্চলের সৌন্দর্যে যোগ করে নতুন মাত্রা। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ নারকেল বাগান। ম্যানগ্রোভ বন পেরিয়ে নারকেল বাগানে পৌঁছালে চোখে পড়ে বিস্তৃত জলরাশি ও খোলা আকাশ। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা ও ক্যাম্পিংয়ের জন্য স্থানটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

‎চর কুকরি-মুকরির আরেকটি বড় আকর্ষণ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ তারুয়া সৈকত। দিগন্তবিস্তৃত সমুদ্র, নির্জন সৈকত ও সবুজ বন একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ থাকায় দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

‎পর্যটকদের জন্য রয়েছে একটি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে চারপাশের বন, নদী ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পাশাপাশি কালিরচর, তারুয়া ও ঢালচরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। অনেকে রাত কাটাতে সাগরপাড়ে তাঁবু টানিয়ে ক্যাম্পিংও করেন।

‎পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি চর কুকরি-মুকরিতে ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়। তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ নৌযান, আবাসন, খাবারের ব্যবস্থা, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও বিনোদন সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

‎স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে চর কুকরি-মুকরি শুধু ভোলার নয়, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত হতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে। তবে পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে চর কুকরি-মুকরি হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও টেকসই পর্যটন স্থান।