ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জে আলু চাষে সার সাশ্রয়ের উদ্যোগ কৃষি বিভাগের

কাগজের খবর ডেস্ক:

মুন্সীগঞ্জে আলু চাষে সার সাশ্রয়ের উদ্যোগ

মুন্সীগঞ্জ একসময় আলু উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও কয়েক বছর ধরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো, বিশেষ করে রংপুর (১ম) বগুড়া (২য়) এবং মুন্সীগঞ্জ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশে আলুর প্রধান জোগানদাতা এবং বিশেষ জাতের আলুর জন্য বিখ্যাত এখনো মুন্সীগঞ্জ জেলা।

এ জেলার প্রান্তিক কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। প্রতি বছর মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়।

আলু চাষে জমির ধরণ, মাটির পুষ্টিমান, আলুর জাত ও কাঙ্খিত ফলন অনুযায়ী রাসায়নিক সারের মাত্রা নির্ধারণ করে সার ব্যবহার করলে আলুর আবাদ এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩শ’ ১২ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, প্রদশর্নী স্থাপনের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

আলু চাষে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্্রাস ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিমিত সার ব্যবহারের লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষা, কৃষক প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যেমে চাষিদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে সুষম সার ব্যবহারে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট মুন্সীগঞ্জে মাটির পুষ্টিমান অনুযায়ী আলু আবাদে সারের মাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতি হেক্টরে ০.৯৭ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এখানকার কৃষকরা আলু আবাদে মৌসুমে প্রায় ৭২০৩৪ মেট্রিক টন সার ব্যবহার করে থাকেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট জমির ধরণ, মাটির পুষ্টিমান, আলুর জাত ও কাঙ্খিত ফলন অনুযায়ী সারের মাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩২৯৮০ মেট্রিক টন। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরামর্শ মোতাবেক সার ব্যবহার করলে মুন্সীগঞ্জে মৌসুমে প্রায় ৩৯০৫৪ মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হবে যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১২ কোটি টাকা।

গবেষণা ইন্সটিটিউটের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি প্রস্তুতের সময় এবং পরবর্তী পরিচর্যার সময় প্রতি হেক্টরে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১৫০ থেকে ২০০ কেজি টিএসপি, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি এমওপি, ১০০ থেকে ১৫০ কেজি জিপসাম এবং কম্পোস্ট সার ১০ টন ব্যবহার করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি মাটির পুষ্টির ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঝুকি থাকে। জমির পুষ্টি উপাদান বিবেচনায় পরিমিত সার ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ভালো ফলন ধরে রাখা যায়।’

তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের আলু চাষকে লাভজনক ও টেকসই করতে সুষম সার ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘খামারি অ্যাপস’ ব্যবহারের করে জেলার ২০৬ টি ব্লকে আলু আবাদে সুষম সার ব্যবহার করে ব্লক ভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি ব্লক থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে মোট ৮৪৭টি মাটির নমুনা পরীক্ষার জন্য মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটে (এসআরডিআই) পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, শুধু বেশি সার প্রয়োগ করলেই ফলন বাড়বে এ ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জৈব সার প্রয়োগে উদ্যোগী করা হচ্ছে কৃষকদের।

উপ পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অবহিত করা হচ্ছে আলু আবাদে সারের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনের স্থায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি ফলনও ভালো হবে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, প্রদশর্নী স্থাপনের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মুন্সীগঞ্জে আলু চাষে সার সাশ্রয়ের উদ্যোগ কৃষি বিভাগের

আপডেট সময় ০৬:৩৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ একসময় আলু উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও কয়েক বছর ধরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো, বিশেষ করে রংপুর (১ম) বগুড়া (২য়) এবং মুন্সীগঞ্জ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশে আলুর প্রধান জোগানদাতা এবং বিশেষ জাতের আলুর জন্য বিখ্যাত এখনো মুন্সীগঞ্জ জেলা।

এ জেলার প্রান্তিক কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। প্রতি বছর মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়।

আলু চাষে জমির ধরণ, মাটির পুষ্টিমান, আলুর জাত ও কাঙ্খিত ফলন অনুযায়ী রাসায়নিক সারের মাত্রা নির্ধারণ করে সার ব্যবহার করলে আলুর আবাদ এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩শ’ ১২ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, প্রদশর্নী স্থাপনের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

আলু চাষে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্্রাস ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিমিত সার ব্যবহারের লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষা, কৃষক প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যেমে চাষিদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে সুষম সার ব্যবহারে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট মুন্সীগঞ্জে মাটির পুষ্টিমান অনুযায়ী আলু আবাদে সারের মাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতি হেক্টরে ০.৯৭ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এখানকার কৃষকরা আলু আবাদে মৌসুমে প্রায় ৭২০৩৪ মেট্রিক টন সার ব্যবহার করে থাকেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট জমির ধরণ, মাটির পুষ্টিমান, আলুর জাত ও কাঙ্খিত ফলন অনুযায়ী সারের মাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩২৯৮০ মেট্রিক টন। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরামর্শ মোতাবেক সার ব্যবহার করলে মুন্সীগঞ্জে মৌসুমে প্রায় ৩৯০৫৪ মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হবে যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১২ কোটি টাকা।

গবেষণা ইন্সটিটিউটের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি প্রস্তুতের সময় এবং পরবর্তী পরিচর্যার সময় প্রতি হেক্টরে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১৫০ থেকে ২০০ কেজি টিএসপি, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি এমওপি, ১০০ থেকে ১৫০ কেজি জিপসাম এবং কম্পোস্ট সার ১০ টন ব্যবহার করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি মাটির পুষ্টির ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঝুকি থাকে। জমির পুষ্টি উপাদান বিবেচনায় পরিমিত সার ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ভালো ফলন ধরে রাখা যায়।’

তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের আলু চাষকে লাভজনক ও টেকসই করতে সুষম সার ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘খামারি অ্যাপস’ ব্যবহারের করে জেলার ২০৬ টি ব্লকে আলু আবাদে সুষম সার ব্যবহার করে ব্লক ভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি ব্লক থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে মোট ৮৪৭টি মাটির নমুনা পরীক্ষার জন্য মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটে (এসআরডিআই) পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, শুধু বেশি সার প্রয়োগ করলেই ফলন বাড়বে এ ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জৈব সার প্রয়োগে উদ্যোগী করা হচ্ছে কৃষকদের।

উপ পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অবহিত করা হচ্ছে আলু আবাদে সারের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনের স্থায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি ফলনও ভালো হবে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, প্রদশর্নী স্থাপনের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।