ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘টাকার লোভ সামলাতে পারিনি’, স্বীকারোক্তি সমন্বয়ক রিয়াদের

স্টাফ রিপোর্টার:

আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ

সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের স্বামীকে আ. লীগের দোসর অভিহিত করে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ। প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার পর বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায় করতে গিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

গুলশানের এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে রিয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়েছিলেন রিয়াদ ও তার সহযোগীরা।

পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মি আহম্মেদ বাসায় আছেন -এমন খবর পেয়ে রিয়াদ ও তার সহযোগীরা গুলশান থানায় যান। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে গেলে রিয়াদ ও তার সহযোগী জানে আলম অপু আবার বাসায় গিয়ে শাম্মির স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে গ্রেফতারের ভয় দেখান। এসময় তাকে (আবু জাফর) আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাকি ৪০ লাখ টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে তারা চলে যান।

পিবিআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, ২৬ জুলাই বাকি টাকা নিতে গিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজন পুলিশের হাতে আটক হন। পরে জানে আলম অপুকেও গ্রেফতার করা হয়।

আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন রিয়াদ। নিজের জবানবন্দিতে তিনি জানান, প্রথম দফায় পাওয়া ১০ লাখ টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। বাকি টাকা আদায়ের জন্য সহযোগীদের বাসায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশের হাতে তারা ধরা পড়েন।

জবানবন্দির একপর্যায়ে রিয়াদ বলেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’

পিবিআইয়ের তদন্তে রিয়াদ ও জানে আলম অপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছয় আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘টাকার লোভ সামলাতে পারিনি’, স্বীকারোক্তি সমন্বয়ক রিয়াদের

আপডেট সময় ০৬:৫৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের স্বামীকে আ. লীগের দোসর অভিহিত করে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ। প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার পর বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায় করতে গিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

গুলশানের এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে রিয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়েছিলেন রিয়াদ ও তার সহযোগীরা।

পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মি আহম্মেদ বাসায় আছেন -এমন খবর পেয়ে রিয়াদ ও তার সহযোগীরা গুলশান থানায় যান। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে গেলে রিয়াদ ও তার সহযোগী জানে আলম অপু আবার বাসায় গিয়ে শাম্মির স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে গ্রেফতারের ভয় দেখান। এসময় তাকে (আবু জাফর) আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাকি ৪০ লাখ টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে তারা চলে যান।

পিবিআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, ২৬ জুলাই বাকি টাকা নিতে গিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজন পুলিশের হাতে আটক হন। পরে জানে আলম অপুকেও গ্রেফতার করা হয়।

আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন রিয়াদ। নিজের জবানবন্দিতে তিনি জানান, প্রথম দফায় পাওয়া ১০ লাখ টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। বাকি টাকা আদায়ের জন্য সহযোগীদের বাসায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশের হাতে তারা ধরা পড়েন।

জবানবন্দির একপর্যায়ে রিয়াদ বলেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’

পিবিআইয়ের তদন্তে রিয়াদ ও জানে আলম অপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছয় আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।