ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে নতুন হুমকি: আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব

কাগজের খবর ডেস্ক:

তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে নতুন হুমকি

ইরানের রাজধানী তেহরানজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড ও বেশ কিছু ব্যানার উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনায় এই বিলবোর্ড ও ব্যানার উন্মোচন করেছে কর্তৃপক্ষ।

তেহরানের ব্যস্ত ইনকিলাব চত্বরের ওপর বসানো বিলবোর্ডটিতে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাথা নিচু করে কারাগারের গারদের পেছনে বন্দি আছেন এবং তার ওপর বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব।

কাছাকাছি আরেকটি বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে জীর্ণ মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকার পটভূমিতে তাদের রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়।

চত্বরে ডজন ডজন মানুষ লাল পতাকা হাতে জড়ো হন এবং তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, রক্তের বদলা নেওয়া হবে। এ সময় তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান। খামেনি হত্যায় চালানো ওই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

তেহরানজুড়ে এর আগেও ট্রাম্পকে উপহাস, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয়ের দাবি জানিয়ে নতুন নকশার বিলবোর্ড ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে; যার উদ্দেশ্য পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এবং বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এই লড়াইয়ের নতুন করে বিস্তার রোধ করা।

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

উত্তর তেহরানের ব্যস্ত তাজরিফ স্কয়ারে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এক চিত্র প্রদর্শনীতে ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ছবি রাখা হয়। যার মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যায়, তাঁর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে এবং একটি বুট জুতো তার মাথার ওপর চেপে বসে আছে।

আরেকটি ছবিতে একটি বোমা দিয়ে তার মুখ ঢেকে রাখতে দেখা যায়।

কাছাকাছি জায়গায় মানুষের সমান আকৃতির একটি কৃত্রিম কারাগারের কক্ষ প্রদর্শন করা হচ্ছে; যেখানে ট্রাম্পের রূপ ধারণ করা একজন অভিনেতা সারাদিন সময় কাটাচ্ছেন। এর পাশের একটি পর্দায় ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতির নানা দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল।

তেহরান বলেছে, যুদ্ধ চলাকালে স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন ট্রাম্প। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের জনবহুল স্থানগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত বিলবোর্ড ও দেওয়ালচিত্র এক নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে। মিত্রদের সম্মান, সামরিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ এবং শত্রুদেশ—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাজনৈতিক বার্তা পাঠাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে নতুন হুমকি: আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব

আপডেট সময় ০৭:১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরানজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড ও বেশ কিছু ব্যানার উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনায় এই বিলবোর্ড ও ব্যানার উন্মোচন করেছে কর্তৃপক্ষ।

তেহরানের ব্যস্ত ইনকিলাব চত্বরের ওপর বসানো বিলবোর্ডটিতে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাথা নিচু করে কারাগারের গারদের পেছনে বন্দি আছেন এবং তার ওপর বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব।

কাছাকাছি আরেকটি বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে জীর্ণ মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকার পটভূমিতে তাদের রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়।

চত্বরে ডজন ডজন মানুষ লাল পতাকা হাতে জড়ো হন এবং তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, রক্তের বদলা নেওয়া হবে। এ সময় তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান। খামেনি হত্যায় চালানো ওই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

তেহরানজুড়ে এর আগেও ট্রাম্পকে উপহাস, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয়ের দাবি জানিয়ে নতুন নকশার বিলবোর্ড ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে; যার উদ্দেশ্য পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এবং বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এই লড়াইয়ের নতুন করে বিস্তার রোধ করা।

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

উত্তর তেহরানের ব্যস্ত তাজরিফ স্কয়ারে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এক চিত্র প্রদর্শনীতে ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ছবি রাখা হয়। যার মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যায়, তাঁর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে এবং একটি বুট জুতো তার মাথার ওপর চেপে বসে আছে।

আরেকটি ছবিতে একটি বোমা দিয়ে তার মুখ ঢেকে রাখতে দেখা যায়।

কাছাকাছি জায়গায় মানুষের সমান আকৃতির একটি কৃত্রিম কারাগারের কক্ষ প্রদর্শন করা হচ্ছে; যেখানে ট্রাম্পের রূপ ধারণ করা একজন অভিনেতা সারাদিন সময় কাটাচ্ছেন। এর পাশের একটি পর্দায় ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতির নানা দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল।

তেহরান বলেছে, যুদ্ধ চলাকালে স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন ট্রাম্প। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের জনবহুল স্থানগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত বিলবোর্ড ও দেওয়ালচিত্র এক নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে। মিত্রদের সম্মান, সামরিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ এবং শত্রুদেশ—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাজনৈতিক বার্তা পাঠাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি।