হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেই বিপদ! নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে দ্রুত যা করবেন
ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ও দাপ্তরিক কাজ—সব ক্ষেত্রেই হোয়াটসঅ্যাপ এখন বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। আর এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের টার্গেট করছে সাইবার অপরাধীরা। অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা চাওয়ার মতো নানা প্রতারণা চালাচ্ছে চক্রটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর কয়েকটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
যেভাবে বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন—
- নিজের অজান্তে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
- কোনো মেসেজ না খুললেও সেটি পড়া হয়েছে (Read) দেখাচ্ছে।
- হঠাৎ করে ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের ভেরিফিকেশন কোড বা ওটিপি আসছে।
- নিজের অজান্তে প্রোফাইল ছবি, নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন হচ্ছে।
- অপরিচিত কোনো কম্পিউটার, ব্রাউজার বা ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা গেলে দ্রুত অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাই করা উচিত।
হ্যাক হলে যেভাবে ফিরে পাবেন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ
১. নিজের নম্বর দিয়ে আবার লগইন করুন
প্রথমেই নিজের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করুন। এসএমএস অথবা ফোনকলের মাধ্যমে পাওয়া ছয় সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে লগইন সম্পন্ন করুন। সফলভাবে কোড প্রবেশ করালে অন্য কারও ফোনে আপনার নম্বর দিয়ে চালু থাকা মূল অ্যাকাউন্টের সেশন বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো অবস্থাতেই এই কোড অন্য কাউকে দেওয়া যাবে না।
২. প্রতারকের পাঠানো বার্তা সরিয়ে ফেলুন
অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর চ্যাটগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। আপনার পরিচয়ে কেউ টাকা চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে কিংবা সন্দেহজনক লিংক ছড়িয়েছে কি না, তা দেখুন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে প্রতারণামূলক বার্তা মুছে ফেলুন এবং প্রোফাইলের পরিবর্তিত তথ্য ঠিক করে নিন।
৩. অপরিচিত ডিভাইসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন
হোয়াটসঅ্যাপের Settings থেকে Linked Devices অপশনে প্রবেশ করুন। এখানে আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সব ডিভাইসের তালিকা পাওয়া যাবে। পরিচিত নয় এমন কোনো ডিভাইস দেখতে পেলে সেটি নির্বাচন করে Log Out করে দিন। এতে অননুমোদিত ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হবে।
৪. পরিচিতজনদের সতর্ক করে দিন
অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের জানিয়ে দিন। বিশেষ করে আপনার পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে যেন যাচাই ছাড়া অর্থ পাঠানো না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করুন। একই সঙ্গে অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দিন।
৫. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন
অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে Settings থেকে Account অপশনে গিয়ে Two-Step Verification চালু করুন। এরপর একটি শক্তিশালী পিন নির্ধারণ করুন। সম্ভব হলে একটি সচল ই-মেইল ঠিকানাও যুক্ত রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে পিন পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন হলে সুবিধা হয়।
টু-স্টেপ পিন চাইলে কী করবেন?
অ্যাকাউন্টে পুনরায় প্রবেশের সময় টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পিন চাওয়া হতে পারে। প্রতারক যদি আগে থেকেই নিজের পছন্দমতো পিন সেট করে দেয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হতে পারে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে পিন ছাড়াই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত সাত দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সামান্য অসতর্কতায় বড় বিপদ!
সাইবার অপরাধীরা শুধু একটি অ্যাকাউন্ট দখল করেই থেমে থাকে না; অনেক সময় সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তিকে প্রতারণার শিকার করে। তাই হোয়াটসঅ্যাপে আসা কোনো ভেরিফিকেশন কোড, পিন কিংবা সন্দেহজনক লিংক নিয়ে অসতর্ক হওয়া যাবে না। নিজের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিচিতজনদের সুরক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

























