ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন পাঠ্যবই : শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:

শিক্ষামন্ত্রী

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না শিক্ষার্থীদের। ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই এবার বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগামী ২৪ ডিসেম্বর নতুন বই দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে বই বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এদিকে, একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম তৈফিকুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাশাপাশি ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা বা মূল্যায়ন কার্যক্রম থাকলে শিক্ষকেরা ব্যস্ত থাকবেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, এরপর শিক্ষার্থীরা বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে। ছুটি শেষে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে তারা পড়াশোনা শুরু করতে পারবে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি আরও এগিয়ে যাবে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাক্‌-প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি ; প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি ; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষার বই ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে মোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই।

এ ছাড়া ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি পাঠ্যবই।

মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির জন্যও বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী— ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি ; সপ্তম শ্রেণির জন্য ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি ; অষ্টম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবম শ্রেণির জন্য মোট ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।

এ ছাড়াও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল পাঠ্যবই।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’। এ দুটি বিষয়ের জন্য ছাপানো হবে ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ কপি বই।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় হিসেবে থাকছে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’। এ দুটি বিষয়ের জন্য ছাপানো হবে ৭১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯০ কপি বই।

সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন পাঠ্যবই : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না শিক্ষার্থীদের। ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই এবার বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগামী ২৪ ডিসেম্বর নতুন বই দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে বই বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এদিকে, একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম তৈফিকুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাশাপাশি ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা বা মূল্যায়ন কার্যক্রম থাকলে শিক্ষকেরা ব্যস্ত থাকবেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, এরপর শিক্ষার্থীরা বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে। ছুটি শেষে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে তারা পড়াশোনা শুরু করতে পারবে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি আরও এগিয়ে যাবে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাক্‌-প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি ; প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি ; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষার বই ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে মোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই।

এ ছাড়া ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি পাঠ্যবই।

মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির জন্যও বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী— ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি ; সপ্তম শ্রেণির জন্য ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি ; অষ্টম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবম শ্রেণির জন্য মোট ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।

এ ছাড়াও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল পাঠ্যবই।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’। এ দুটি বিষয়ের জন্য ছাপানো হবে ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ কপি বই।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় হিসেবে থাকছে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’। এ দুটি বিষয়ের জন্য ছাপানো হবে ৭১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯০ কপি বই।

সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।