ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ধাক্কা, ব্যাটিং নিয়ে চিন্তায় বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদ :

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন মিলছে না। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে টাইগারদের ব্যাটিং।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা অনেক। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট—সবার লক্ষ্য আসন্ন বড় মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা। ওয়ানডে ক্রিকেটকে বরাবরই নিজেদের শক্তির জায়গা হিসেবে দাবি করে বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামলেও প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের পরাজয় দলের দুর্বলতাগুলো আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব এবং চাপের মুহূর্তে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ম্যাচটি মাঠে বসে দেখেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। খেলা শেষে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে বৈঠকও করেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে দলের এমন পারফরম্যান্স যে স্বস্তিদায়ক নয়, তা সহজেই অনুমেয়।

আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ ও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে প্রস্তুতির সুযোগ খুব বেশি নেই। তাই হাতে থাকা ম্যাচগুলো কাজে লাগানো জরুরি বলে মনে করছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন জানান, বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ দলের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে তার আগে ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের হতাশা থাকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

তাসকিনের মতে, বাংলাদেশ খারাপ দল নয়; বরং ধারাবাহিকতার অভাবই বড় সমস্যা। পাশাপাশি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা, অর্থাৎ গেম অ্যাওয়ারনেস বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্ট একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটছে না

বাংলাদেশের বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখা গেলেও ব্যাটিংয়ে সেই স্থিরতা নেই। মাঝেমধ্যে বড় জুটি কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের চিত্র বদলালেও অধিকাংশ সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভেঙে পড়ছে ব্যাটিং লাইনআপ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও ব্যাটাররা উল্লেখযোগ্য কোনো জুটি গড়তে পারেননি। তাসকিনের মতে, অন্তত একটি কার্যকর পার্টনারশিপ গড়ে উঠলে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু বারবার একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি দলের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে।

তিনি মনে করেন, ব্যাটিংয়ের এই সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। কারণ বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকলেই চলবে না; চাপের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।

লিটন-মিরাজের অনুপস্থিতি, তবু দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দল আরও কিছু সমস্যার মুখে পড়েছে। চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস ছিটকে গেছেন টুর্নামেন্ট থেকে। অন্যদিকে জ্বরের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।

দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে প্রভাব ফেলতে পারে। লিটনকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাসকিন। মিরাজেরও দলের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এই দুই ক্রিকেটার না থাকলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

চোট কিংবা অসুস্থতা ক্রিকেটেরই অংশ। তাই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর বদলে বিকল্প ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করাই জরুরি।

চাপ সামলাতে না পারাই বড় দুর্বলতা

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দক্ষতার ঘাটতির চেয়ে পরিস্থিতি সামলানোর দুর্বলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাসকিন। তার মতে, জাতীয় দলের ব্যাটাররা প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু চাপ বাড়লে অনেক সময় সেই সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেন না তারা।

বড় দল হয়ে উঠতে হলে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিপক্ষের চাপ, উইকেট হারানোর পরিস্থিতি কিংবা রান তোলার প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় রেখে ব্যাটারদের আরও পরিণত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে দলীয়ভাবে কাজ চলছে বলেও জানান বাংলাদেশের এই পেসার।

ফাইনালের আশা এখনো ছাড়ছে না বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। তবে সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সামনে থাকা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্বাস তাসকিনের।

এখন বাংলাদেশের সামনে কাজ একটাই—হারের হতাশা পেছনে ফেলে মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। বোলিংয়ের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, বড় জুটি গড়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বাড়াতে হবে।

২০২৭ বিশ্বকাপ এখনো সামনে। তবে বড় আসরের আগে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো শুধরে নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই হার বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে কি না, নাকি পরের ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হবে—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ধাক্কা, ব্যাটিং নিয়ে চিন্তায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৭:৪৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন মিলছে না। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে টাইগারদের ব্যাটিং।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা অনেক। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট—সবার লক্ষ্য আসন্ন বড় মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা। ওয়ানডে ক্রিকেটকে বরাবরই নিজেদের শক্তির জায়গা হিসেবে দাবি করে বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামলেও প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের পরাজয় দলের দুর্বলতাগুলো আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব এবং চাপের মুহূর্তে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ম্যাচটি মাঠে বসে দেখেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। খেলা শেষে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে বৈঠকও করেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে দলের এমন পারফরম্যান্স যে স্বস্তিদায়ক নয়, তা সহজেই অনুমেয়।

আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ ও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে প্রস্তুতির সুযোগ খুব বেশি নেই। তাই হাতে থাকা ম্যাচগুলো কাজে লাগানো জরুরি বলে মনে করছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন জানান, বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ দলের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে তার আগে ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের হতাশা থাকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

তাসকিনের মতে, বাংলাদেশ খারাপ দল নয়; বরং ধারাবাহিকতার অভাবই বড় সমস্যা। পাশাপাশি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা, অর্থাৎ গেম অ্যাওয়ারনেস বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্ট একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটছে না

বাংলাদেশের বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখা গেলেও ব্যাটিংয়ে সেই স্থিরতা নেই। মাঝেমধ্যে বড় জুটি কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের চিত্র বদলালেও অধিকাংশ সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভেঙে পড়ছে ব্যাটিং লাইনআপ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও ব্যাটাররা উল্লেখযোগ্য কোনো জুটি গড়তে পারেননি। তাসকিনের মতে, অন্তত একটি কার্যকর পার্টনারশিপ গড়ে উঠলে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু বারবার একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি দলের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে।

তিনি মনে করেন, ব্যাটিংয়ের এই সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। কারণ বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকলেই চলবে না; চাপের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।

লিটন-মিরাজের অনুপস্থিতি, তবু দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দল আরও কিছু সমস্যার মুখে পড়েছে। চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস ছিটকে গেছেন টুর্নামেন্ট থেকে। অন্যদিকে জ্বরের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।

দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে প্রভাব ফেলতে পারে। লিটনকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাসকিন। মিরাজেরও দলের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এই দুই ক্রিকেটার না থাকলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

চোট কিংবা অসুস্থতা ক্রিকেটেরই অংশ। তাই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর বদলে বিকল্প ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করাই জরুরি।

চাপ সামলাতে না পারাই বড় দুর্বলতা

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দক্ষতার ঘাটতির চেয়ে পরিস্থিতি সামলানোর দুর্বলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাসকিন। তার মতে, জাতীয় দলের ব্যাটাররা প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু চাপ বাড়লে অনেক সময় সেই সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেন না তারা।

বড় দল হয়ে উঠতে হলে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিপক্ষের চাপ, উইকেট হারানোর পরিস্থিতি কিংবা রান তোলার প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় রেখে ব্যাটারদের আরও পরিণত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে দলীয়ভাবে কাজ চলছে বলেও জানান বাংলাদেশের এই পেসার।

ফাইনালের আশা এখনো ছাড়ছে না বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। তবে সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সামনে থাকা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্বাস তাসকিনের।

এখন বাংলাদেশের সামনে কাজ একটাই—হারের হতাশা পেছনে ফেলে মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। বোলিংয়ের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, বড় জুটি গড়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বাড়াতে হবে।

২০২৭ বিশ্বকাপ এখনো সামনে। তবে বড় আসরের আগে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো শুধরে নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই হার বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে কি না, নাকি পরের ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হবে—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।