রোবটিকসের যুগে মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর আলোচনা হতাশাজনক: ববি হাজ্জাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রযুক্তি ও আধুনিকতার দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, নারীর ক্ষমতায়ন ও কিশোরীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কেউ কেউ মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমানোর বিষয়ে তদবির করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা তথ্য ও জ্ঞানের আলোকে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অতীতের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান সময়ের বাস্তবতার পার্থক্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েক হাজার বছর আগের মিসর কিংবা প্রাচীন গ্রিসের সামাজিক পরিস্থিতি দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতাকে বিচার করা যায় না। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির এই সময়ে মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর মতো বিষয় রাজনৈতিক আলোচনায় আসা তাঁকে হতাশ করেছে।
নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, যোগাযোগের দক্ষতা তৈরি, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাও সমান জরুরি।
বাল্যবিয়ের পেছনে পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মতো কারণগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান ববি হাজ্জাজ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা সুবিধাবঞ্চিত কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা অর্জন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। এতে তারা নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
























