ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০৮ বছর বয়সেও চালান গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ২০৩৩ সাল পর্যন্ত!

কাগজের খবর ডেস্ক:

১০৮ বছর বয়সেও চালান গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারে ১০৮ বছর বয়সেও নিজের গাড়ি চালিয়ে দৈনন্দিন কাজ করছেন সুসান ইয়ং ব্রাউন। সম্প্রতি তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে, যার মেয়াদ থাকবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। তখন তার বয়স হবে ১১৫ বছর।

বয়স যে সক্রিয় জীবনযাপনের পথে সব সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তার ব্যতিক্রমী উদাহরণ সুসান ইয়ং ব্রাউন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ডোভার শহরের এই বাসিন্দা এক শতাব্দীরও বেশি বয়সেও নিজের দৈনন্দিন কাজ যতটা সম্ভব নিজেই সামলান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯১৮ সালে জন্ম নেওয়া ব্রাউন আট দশকেরও বেশি সময় ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার গাড়ি একটি নীল রঙের সুবারু। বাজার করা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য এখনো নিজের গাড়ির ওপর নির্ভর করেন তিনি।

ব্রাউনের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি সামনে আসে তার ১০৮তম জন্মদিন উদযাপনের সময়। ডেলাওয়্যার কর্তৃপক্ষ তার লাইসেন্সের মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তিনি কত দিন গাড়ি চালাতে পারবেন, তা তার শারীরিক সক্ষমতা ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

ব্রাউনের জীবন কেটেছে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। শৈশবে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবৈষম্যের সময় পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে ডেলাওয়্যার স্টেট কলেজ ফর কালার্ড স্টুডেন্টস থেকে ১৯৪৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। প্রায় ৩০ বছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

অবসর নেওয়ার পরও সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস ধরে রেখেছেন ব্রাউন। ১৯৭৩ সাল থেকে তিনি ডোভারের মডার্ন ম্যাচিউরিটি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখানে যান। সেখানে অন্য প্রবীণদের সঙ্গে দলগত ব্যায়াম ও চেয়ার ড্যান্সিংয়েও অংশ নেন।

শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলেন তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে নির্দিষ্ট ব্যায়ামের রুটিন অনুসরণ করছেন ব্রাউন। খাবারের তালিকায় রয়েছে মুরগির মাংস, তাজা ফল ও ব্ল্যাক কফি। এড়িয়ে চলেন ভাজাপোড়া খাবার এবং অ্যালকোহল।

তার ১০৮তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিচিতজনসহ ১৩০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ডেলাওয়্যারের গভর্নর ম্যাট মেয়ারও অংশ নেন। দীর্ঘ জীবন ও সক্রিয় থাকার জন্য তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।

ব্রাউনের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও স্বাধীনভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মডার্ন ম্যাচিউরিটি সেন্টারের সামনে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি চালকদের জন্য বিশেষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায়, প্রবীণ বয়সে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শুধু বয়স নয়, দৃষ্টিশক্তি, শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। সুসান ইয়ং ব্রাউনের ঘটনা তাই একদিকে যেমন ব্যতিক্রমী, অন্যদিকে নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপনের গুরুত্বও তুলে ধরে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

১০৮ বছর বয়সেও চালান গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ২০৩৩ সাল পর্যন্ত!

আপডেট সময় ০৬:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারে ১০৮ বছর বয়সেও নিজের গাড়ি চালিয়ে দৈনন্দিন কাজ করছেন সুসান ইয়ং ব্রাউন। সম্প্রতি তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে, যার মেয়াদ থাকবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। তখন তার বয়স হবে ১১৫ বছর।

বয়স যে সক্রিয় জীবনযাপনের পথে সব সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তার ব্যতিক্রমী উদাহরণ সুসান ইয়ং ব্রাউন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ডোভার শহরের এই বাসিন্দা এক শতাব্দীরও বেশি বয়সেও নিজের দৈনন্দিন কাজ যতটা সম্ভব নিজেই সামলান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯১৮ সালে জন্ম নেওয়া ব্রাউন আট দশকেরও বেশি সময় ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার গাড়ি একটি নীল রঙের সুবারু। বাজার করা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য এখনো নিজের গাড়ির ওপর নির্ভর করেন তিনি।

ব্রাউনের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি সামনে আসে তার ১০৮তম জন্মদিন উদযাপনের সময়। ডেলাওয়্যার কর্তৃপক্ষ তার লাইসেন্সের মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তিনি কত দিন গাড়ি চালাতে পারবেন, তা তার শারীরিক সক্ষমতা ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

ব্রাউনের জীবন কেটেছে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। শৈশবে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবৈষম্যের সময় পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে ডেলাওয়্যার স্টেট কলেজ ফর কালার্ড স্টুডেন্টস থেকে ১৯৪৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। প্রায় ৩০ বছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

অবসর নেওয়ার পরও সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস ধরে রেখেছেন ব্রাউন। ১৯৭৩ সাল থেকে তিনি ডোভারের মডার্ন ম্যাচিউরিটি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখানে যান। সেখানে অন্য প্রবীণদের সঙ্গে দলগত ব্যায়াম ও চেয়ার ড্যান্সিংয়েও অংশ নেন।

শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলেন তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে নির্দিষ্ট ব্যায়ামের রুটিন অনুসরণ করছেন ব্রাউন। খাবারের তালিকায় রয়েছে মুরগির মাংস, তাজা ফল ও ব্ল্যাক কফি। এড়িয়ে চলেন ভাজাপোড়া খাবার এবং অ্যালকোহল।

তার ১০৮তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিচিতজনসহ ১৩০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ডেলাওয়্যারের গভর্নর ম্যাট মেয়ারও অংশ নেন। দীর্ঘ জীবন ও সক্রিয় থাকার জন্য তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।

ব্রাউনের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও স্বাধীনভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মডার্ন ম্যাচিউরিটি সেন্টারের সামনে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি চালকদের জন্য বিশেষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায়, প্রবীণ বয়সে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শুধু বয়স নয়, দৃষ্টিশক্তি, শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। সুসান ইয়ং ব্রাউনের ঘটনা তাই একদিকে যেমন ব্যতিক্রমী, অন্যদিকে নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপনের গুরুত্বও তুলে ধরে।