কুমারখালীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, নারী-শিশুসহ আহত ৪৫
কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকায় একটি উন্মত্ত কুকুরের আকস্মিক হামলায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একের পর এক পথচারীকে কামড় ও আঁচড় দেয় কুকুরটি। এ ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ একটি কুকুরকে অস্বাভাবিকভাবে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি পথচারীদের ওপর হামলা শুরু করে। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় কিংবা আঁচড় দিয়ে দ্রুত অন্যদিকে চলে যায়। এতে হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ শহরের কয়েকটি এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
কুকুরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে অনেক আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য ভিড় করেছেন। কারও হাত, কারও পা আবার কারও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঁচড়ের ক্ষত রয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পাশাপাশি দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আহতদের একজন রোকন জানান, তিনি হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পেছন দিক থেকে কুকুরটি এসে তার হাঁটুতে কামড় দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. প্রত্যয় বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া শুরু হয়। রাত পর্যন্ত ২৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে আরও আহত ব্যক্তি এলে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপর্না লতিফ আহমেদ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪৫ জন কুকুরের হামলায় আহত হয়েছেন। আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের টিকা মজুত রয়েছে এবং আক্রান্ত সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে কুকুরটিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।

























