ডাকসুতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত, সংগ্রহশালা ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো ও সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন কর্মসূচি পালন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি রেখে তা পদদলিত করেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু ভবনের প্রবেশপথে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে ডাকসু সংগ্রহশালার সংস্কারকাজের পর সেখানে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এসব ছবি ও স্মারক অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোনো প্রক্রিয়া বা নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক শিক্ষার্থী ডাকসু ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের কয়েকজন সদস্য ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর তারা সংগ্রহশালার সংস্কার ও স্মারক সরানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবার জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের একটি প্রতিনিধি দলও ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন করে। পরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির সদস্যরা ডাকসুর ভেতরে দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুরের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংগ্রহশালায় বিতর্কিত ছবি রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই ইস্যুতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটির অভিযোগ, ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিকৃতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা সরিয়ে ফেলা বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মারক ও উপাদান পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
ডাকসু সংগ্রহশালার সংস্কার, ঐতিহাসিক স্মারক অপসারণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি টাঙানো ও ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও অভিযোগের কারণে বিষয়টি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

























