কিশোরের আত্মহত্যা: মেটা-স্ন্যাপচ্যাট-টিকটক-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে চার কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি খাতের চার প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতদের পরিবারগুলো। মামলায় মেটা, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মের নকশা ও অ্যালগরিদম তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি করেছে।
ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের সুপিরিয়র কোর্টে বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলায় বলা হয়, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে ওই কিশোর-কিশোরীরা ঘুমের মারাত্মক সমস্যা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যাপ্রবণ চিন্তার মতো জটিল মানসিক অবস্থার মধ্যে পড়েছিল। পরিবারের দাবি, এসব প্ল্যাটফর্মের আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্য তাদের সন্তানদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
চার রাজ্য, এক ধরনের অভিযোগ
সোশ্যাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার নামের একটি আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মিনেসোটা, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেনেসি ও টেক্সাসের চারটি পরিবারের পক্ষে মামলাটি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মহত্যা করা চারজনের বয়স ছিল ১৩, ১৪, ১৭ ও ১৮ বছর।
আইনজীবীদের ভাষ্য, ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে বসবাস করলেও চার পরিবারের সন্তানদের আচরণে আশ্চর্যজনক মিল ছিল। তারা ধীরে ধীরে পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যায়, অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটাতে শুরু করে এবং ক্রমেই বিষণ্ন ও আত্মমুখী হয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী ম্যাথিউ বার্গম্যান বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বহুদিন ধরে তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। তার দাবি, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বড় জাতীয় সংকট তৈরি করেছে।
কোম্পানিগুলোর নীরবতা
মামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও মেটা, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান গুগল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ছে আইনি চাপ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে আটকে থাকে এবং বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই মামলা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অ্যালগরিদম, কনটেন্ট রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থা এবং শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনাকে আরও তীব্র করবে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও আত্মহত্যাপ্রবণতার মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবু শিশু ও তরুণদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ


























