ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ সেকেন্ডে মন ভাল করার সহজ ৫ উপায়

কাগজের খবর ডেস্ক:

মন ভাল করার সহজ ৫ উপায়

সবসময় কিন্তু আমাদের মানসিক অবস্থা এক থাকে না। বিভিন্ন সময় দেখা যায় আমরা নানান চাপ অনুভব করি। কারোর আবার খুব দ্রুত মুড সুইং বা মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন হয়। তবে এটা কিন্তু খুব সহজেই সমাধান করা সম্ভব। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। আর এটা ঠিক করার সহজ উপায় হতে পারে মেডিটেশন বা ব্যায়াম তবে এটা কিন্তু গতানুগতিক নয়।

নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কিছু ছোট অভ্যাসও মুড ভালো করা, মানসিক চাপ কমানো এবং মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লাফটার ইয়োগা, ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস, অল্প সময়ের স্ট্রেচিং এবং নিজেকে শান্ত করার জন্য স্পর্শের মতো সহজ কিছু কৌশল। ‘মাইক্রোপ্রাকটিস’ বইয়ের লেখক এলি সাসম্যানের মতে, কিছু অনুশীলন করতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় ব্যয় হতে পারে। এগুলোকে বলা হয় ‘মাইক্রোপ্রাকটিস’ বা ক্ষুদ্র অনুশীলন।

লাফটার ইয়োগা

লাফটার ইয়োগায় কোনো কৌতুক ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে হাসতে হয়। প্রথমে কৃত্রিম মনে হলেও কিছুক্ষণ পর সেই হাসি স্বাভাবিক হাসিতে পরিণত হতে পারে। গবেষক ন্যাটালি ভ্যান ডের ওয়ালের মতে, এতে শুধু মুড ভালো হওয়াই নয়, মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও সহজ হতে পারে।

এটি করতে প্রথমে তিনবার গভীর শ্বাস নিতে হবে। এরপর ইচ্ছা করে ‘হি হি হি’ বা ‘হা হা হা’ বলে হাসতে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে হাসির শব্দ বাড়িয়ে শেষে আবার গভীর শ্বাস নিয়ে কৃতজ্ঞতার কোনো বিষয় মনে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাইক্রো ইয়োগা

যদি আপনার লাফটার ইয়োগা ভালো না লাগে তাহলে ভরসা রাখতে হবে মাইক্রো ইয়োগায়। এটা দারুণ উপকারী একটি ব্যায়াম। দেখা যায় দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকলে শরীরের পেশিতে চাপ তৈরি হয়। তাই প্রতি ১৫ মিনিট পর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড শরীর স্ট্রেচ করার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে। পিঠের পেছনে দুই হাতের আঙুল জড়িয়ে নিয়ে শ্বাস নেয়ার সময় হাত নিচের দিকে প্রসারিত করে বুক সামান্য ওপরে তোলা যায়। এরপর শ্বাস ছাড়ার সময় শরীরকে শিথিল করতে হবে।

ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস

মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেয়া দারুণ উপকারী। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় একদল গবেষক দেখেন, মাত্র তিনটি ধীর ও দীর্ঘ শ্বাস নিলে তা মস্তিষ্কের ‘আলফা তরঙ্গ’ বাড়িয়ে দেয়, যা শান্ত হতে ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। একই সাথে এটি থিটা তরঙ্গ বাড়ায়, যা গভীর শিথিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব নেপলস ফেদেরিকো টু-এর গবেষক অমিত কুমার এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন।

তার পরামর্শ হলো, যখনই আমাদের প্রয়োজন মনে হবে যেমন অফিসে কোনো বড় মিটিংয়ের আগে বা যখন আমাদের মন অতিরিক্ত চঞ্চল হয়ে উঠবে- তখনই আমরা এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারি। গবেষণায় ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সঙ্গেও মস্তিষ্কের এমন কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে, যা শিথিলতা ও মনোযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পদ্ধতিটি সহজ প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনবার ধীরে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস ছাড়ার সময়টি শ্বাস নেয়ার চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ রাখতে হবে।

আত্ম-সহানুভূতিশীল স্পর্শ

দীর্ঘকাল ধরেই বলা হয়ে আসছে যে স্পর্শ আমাদের জন্য উপকারী। তবে এটাও ঠিক যে মানুষের স্পর্শের বিকল্প খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তবে সাসম্যান এবং তার সহকর্মীদের একটি গবেষণা করেন। আর এতে দেখা যায়, মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি সহজ নিজেকে শান্ত করার স্পর্শ করার অনুশীলন সত্যি দারুণ উপকারী। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ফলো-আপ গবেষণায় সাসম্যান দেখেছেন যে, এই অনুশীলনের ফ্রিকোয়েন্সি বা হার বাড়ালে তা পরবর্তী ছয় মাসে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে

সুস্থ থাকতে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব দিতে হবে। তাই আপনার জন্য উপযোগী কৌশল খুঁজে নিন। সব কৌশল মানতে হবে এমন কোনও কথা নেই। কেবল যেটা আপনার জন্য উপকারী সেটাই করুন। ঘন ঘন মেজেজ পরিবর্তন অনেক সময় আমাদের নানান জটিলতার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায়। বিশেষ করে দেখা যায় অনেক সময় সামাজিক হতে সমস্যা হয়। তাই মেজাজ হারানোর থেকে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ভালো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৩০ সেকেন্ডে মন ভাল করার সহজ ৫ উপায়

আপডেট সময় ০৯:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সবসময় কিন্তু আমাদের মানসিক অবস্থা এক থাকে না। বিভিন্ন সময় দেখা যায় আমরা নানান চাপ অনুভব করি। কারোর আবার খুব দ্রুত মুড সুইং বা মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন হয়। তবে এটা কিন্তু খুব সহজেই সমাধান করা সম্ভব। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। আর এটা ঠিক করার সহজ উপায় হতে পারে মেডিটেশন বা ব্যায়াম তবে এটা কিন্তু গতানুগতিক নয়।

নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কিছু ছোট অভ্যাসও মুড ভালো করা, মানসিক চাপ কমানো এবং মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লাফটার ইয়োগা, ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস, অল্প সময়ের স্ট্রেচিং এবং নিজেকে শান্ত করার জন্য স্পর্শের মতো সহজ কিছু কৌশল। ‘মাইক্রোপ্রাকটিস’ বইয়ের লেখক এলি সাসম্যানের মতে, কিছু অনুশীলন করতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় ব্যয় হতে পারে। এগুলোকে বলা হয় ‘মাইক্রোপ্রাকটিস’ বা ক্ষুদ্র অনুশীলন।

লাফটার ইয়োগা

লাফটার ইয়োগায় কোনো কৌতুক ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে হাসতে হয়। প্রথমে কৃত্রিম মনে হলেও কিছুক্ষণ পর সেই হাসি স্বাভাবিক হাসিতে পরিণত হতে পারে। গবেষক ন্যাটালি ভ্যান ডের ওয়ালের মতে, এতে শুধু মুড ভালো হওয়াই নয়, মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও সহজ হতে পারে।

এটি করতে প্রথমে তিনবার গভীর শ্বাস নিতে হবে। এরপর ইচ্ছা করে ‘হি হি হি’ বা ‘হা হা হা’ বলে হাসতে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে হাসির শব্দ বাড়িয়ে শেষে আবার গভীর শ্বাস নিয়ে কৃতজ্ঞতার কোনো বিষয় মনে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাইক্রো ইয়োগা

যদি আপনার লাফটার ইয়োগা ভালো না লাগে তাহলে ভরসা রাখতে হবে মাইক্রো ইয়োগায়। এটা দারুণ উপকারী একটি ব্যায়াম। দেখা যায় দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকলে শরীরের পেশিতে চাপ তৈরি হয়। তাই প্রতি ১৫ মিনিট পর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড শরীর স্ট্রেচ করার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে। পিঠের পেছনে দুই হাতের আঙুল জড়িয়ে নিয়ে শ্বাস নেয়ার সময় হাত নিচের দিকে প্রসারিত করে বুক সামান্য ওপরে তোলা যায়। এরপর শ্বাস ছাড়ার সময় শরীরকে শিথিল করতে হবে।

ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস

মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেয়া দারুণ উপকারী। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় একদল গবেষক দেখেন, মাত্র তিনটি ধীর ও দীর্ঘ শ্বাস নিলে তা মস্তিষ্কের ‘আলফা তরঙ্গ’ বাড়িয়ে দেয়, যা শান্ত হতে ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। একই সাথে এটি থিটা তরঙ্গ বাড়ায়, যা গভীর শিথিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব নেপলস ফেদেরিকো টু-এর গবেষক অমিত কুমার এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন।

তার পরামর্শ হলো, যখনই আমাদের প্রয়োজন মনে হবে যেমন অফিসে কোনো বড় মিটিংয়ের আগে বা যখন আমাদের মন অতিরিক্ত চঞ্চল হয়ে উঠবে- তখনই আমরা এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারি। গবেষণায় ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সঙ্গেও মস্তিষ্কের এমন কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে, যা শিথিলতা ও মনোযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পদ্ধতিটি সহজ প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনবার ধীরে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস ছাড়ার সময়টি শ্বাস নেয়ার চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ রাখতে হবে।

আত্ম-সহানুভূতিশীল স্পর্শ

দীর্ঘকাল ধরেই বলা হয়ে আসছে যে স্পর্শ আমাদের জন্য উপকারী। তবে এটাও ঠিক যে মানুষের স্পর্শের বিকল্প খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তবে সাসম্যান এবং তার সহকর্মীদের একটি গবেষণা করেন। আর এতে দেখা যায়, মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি সহজ নিজেকে শান্ত করার স্পর্শ করার অনুশীলন সত্যি দারুণ উপকারী। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ফলো-আপ গবেষণায় সাসম্যান দেখেছেন যে, এই অনুশীলনের ফ্রিকোয়েন্সি বা হার বাড়ালে তা পরবর্তী ছয় মাসে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে

সুস্থ থাকতে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব দিতে হবে। তাই আপনার জন্য উপযোগী কৌশল খুঁজে নিন। সব কৌশল মানতে হবে এমন কোনও কথা নেই। কেবল যেটা আপনার জন্য উপকারী সেটাই করুন। ঘন ঘন মেজেজ পরিবর্তন অনেক সময় আমাদের নানান জটিলতার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায়। বিশেষ করে দেখা যায় অনেক সময় সামাজিক হতে সমস্যা হয়। তাই মেজাজ হারানোর থেকে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ভালো।