ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিন যাবেন? খরচ ও নিয়মকানুনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিন

কাগজের খবর ডেস্ক:

সেন্টমার্টিন

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে ভ্রমণ ও রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। তবে ভ্রমণের আগে জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, রিসোর্ট ভাড়া ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরোপিত বিধিনিষেধ সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। পর্যটকদের সুবিধার্থে থাকছে প্রয়োজনীয় তথ্য।

এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।

২০২৬ সালের পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে অন্তত ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে আছে- এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ। ভ্রমণের আগে অনুমোদিত জাহাজের তালিকা ও চলাচলের সময়সূচি যাচাই করে নেবেন।

জাহাজের টিকেট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, হটলাইন বা কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া, বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমেও টিকেট কিনতে পারবেন। যাওয়ার ও ফেরার টিকেট আলাদাভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও একসঙ্গে রিটার্ন টিকেট বুকিং করে রাখা সুবিধাজনক। এতে ফেরার সময় টিকেট নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয় না।

সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও লাক্সারি কেবিনসহ বিভিন্ন ধরনের আসনের ব্যবস্থা আছে। আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে যাওয়া-আসার রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের দাম প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তদারকিতে ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই পাস বাধ্যতামূলক। তবে, পর্যটকদের আলাদাভাবে কোথাও গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে না। জাহাজের টিকেট বুকিংয়ের সময়ই পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

দ্বীপটিতে পর্যটকদের থাকার জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আছে। ভ্রমণের আগেই হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং নিশ্চিত করবেন।

সেন্টমার্টিনে হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া মূলত এর মান ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। আবাসনগুলোকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়-

প্রিমিয়াম হোটেল ও রিসোর্ট : প্রতি রাতের ভাড়া ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা।

স্ট্যান্ডার্ড হোটেল ও রিসোর্ট : প্রতি রাতের ভাড়া ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা।

ইকোনমি হোটেল ও রিসোর্ট : প্রতি রাতের ভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে, ছুটির দিন ও পর্যটকের চাপ বেশি থাকলে ভাড়া বাড়তে পারে।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাবেন যেভাবে

সেন্টমার্টিন যেতে হলে প্রথমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে কক্সবাজার শহরে পৌঁছাতে হবে। এরপর কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে জাহাজে চড়ে দ্বীপে যাওয়া যাবে।

সাধারণত প্রতিদিন সকালে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছেড়ে যায়। অন্যদিকে, দ্বীপ থেকে বিকেলে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে জাহাজ ফিরে আসে। ভ্রমণের আগে জাহাজের নির্ধারিত সময়সূচি জেনে নিতে হবে।

যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

– জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সঙ্গে রাখতে হবে।

– পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

– সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো যাবে না।

– উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানো যাবে না।

– সৈকতে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না।

– মোটরসাইকেল ও মোটরচালিত যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

জাহাজের টিকেট বুকিং ও যোগাযোগের ঠিকানা

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকেট, ভাড়া ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে।

এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১ ও এমভি বারো আউলিয়া

হটলাইন

০১৬১০-০৫১০০৫

০১৯৬৭-৬৭০৭০৭

ওয়েবসাইট

কর্ণফুলী এক্সপ্রেস : karnafulyexpress.com.bd

বারো আউলিয়া : baroawlia.com.bd

বে-ক্রুজার ১: bayone.com.bd

কেয়ারি সিন্দাবাদ

হটলাইন

০১৮৪৭-৩২৩৭০৫-০৬

ওয়েবসাইট

kearitourismbd.com

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সেন্টমার্টিন যাবেন? খরচ ও নিয়মকানুনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিন

আপডেট সময় ০৬:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে ভ্রমণ ও রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। তবে ভ্রমণের আগে জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, রিসোর্ট ভাড়া ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরোপিত বিধিনিষেধ সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। পর্যটকদের সুবিধার্থে থাকছে প্রয়োজনীয় তথ্য।

এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।

২০২৬ সালের পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে অন্তত ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে আছে- এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ। ভ্রমণের আগে অনুমোদিত জাহাজের তালিকা ও চলাচলের সময়সূচি যাচাই করে নেবেন।

জাহাজের টিকেট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, হটলাইন বা কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া, বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমেও টিকেট কিনতে পারবেন। যাওয়ার ও ফেরার টিকেট আলাদাভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও একসঙ্গে রিটার্ন টিকেট বুকিং করে রাখা সুবিধাজনক। এতে ফেরার সময় টিকেট নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয় না।

সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও লাক্সারি কেবিনসহ বিভিন্ন ধরনের আসনের ব্যবস্থা আছে। আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে যাওয়া-আসার রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের দাম প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তদারকিতে ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই পাস বাধ্যতামূলক। তবে, পর্যটকদের আলাদাভাবে কোথাও গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে না। জাহাজের টিকেট বুকিংয়ের সময়ই পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

দ্বীপটিতে পর্যটকদের থাকার জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আছে। ভ্রমণের আগেই হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং নিশ্চিত করবেন।

সেন্টমার্টিনে হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া মূলত এর মান ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। আবাসনগুলোকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়-

প্রিমিয়াম হোটেল ও রিসোর্ট : প্রতি রাতের ভাড়া ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা।

স্ট্যান্ডার্ড হোটেল ও রিসোর্ট : প্রতি রাতের ভাড়া ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা।

ইকোনমি হোটেল ও রিসোর্ট : প্রতি রাতের ভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে, ছুটির দিন ও পর্যটকের চাপ বেশি থাকলে ভাড়া বাড়তে পারে।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাবেন যেভাবে

সেন্টমার্টিন যেতে হলে প্রথমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে কক্সবাজার শহরে পৌঁছাতে হবে। এরপর কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে জাহাজে চড়ে দ্বীপে যাওয়া যাবে।

সাধারণত প্রতিদিন সকালে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছেড়ে যায়। অন্যদিকে, দ্বীপ থেকে বিকেলে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে জাহাজ ফিরে আসে। ভ্রমণের আগে জাহাজের নির্ধারিত সময়সূচি জেনে নিতে হবে।

যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

– জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সঙ্গে রাখতে হবে।

– পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

– সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো যাবে না।

– উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানো যাবে না।

– সৈকতে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না।

– মোটরসাইকেল ও মোটরচালিত যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

জাহাজের টিকেট বুকিং ও যোগাযোগের ঠিকানা

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকেট, ভাড়া ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে।

এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১ ও এমভি বারো আউলিয়া

হটলাইন

০১৬১০-০৫১০০৫

০১৯৬৭-৬৭০৭০৭

ওয়েবসাইট

কর্ণফুলী এক্সপ্রেস : karnafulyexpress.com.bd

বারো আউলিয়া : baroawlia.com.bd

বে-ক্রুজার ১: bayone.com.bd

কেয়ারি সিন্দাবাদ

হটলাইন

০১৮৪৭-৩২৩৭০৫-০৬

ওয়েবসাইট

kearitourismbd.com