রামপালের অব্যবহৃত জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা জমিতে এবার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় মোট ১৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
অনুমোদিত অর্থের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় ইউনিটের জমিতেই সৌর প্রকল্প
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান দুটি ইউনিটের মধ্যে কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। তবে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণের কাজ এগোয়নি। ওই ইউনিট নির্মাণের জন্য আগে থেকেই বড় একটি জমি উন্নয়ন ও প্রস্তুত করা হয়েছিল। এখন সেই অব্যবহৃত জমিকেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট ও উন্নয়ন করেছে। ফলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।
সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাকছে আট ঘণ্টার ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা
প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যাটারি স্টোরেজের বিষয়টি রাখা হয়নি। সে পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার কথা ছিল।
তবে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সক্ষমতা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের মোট ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
প্রকল্পটির পরিবেশগত মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
১৩ প্রকল্পে ব্যয় ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি
একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন প্রকল্প। বাকি দুটির সংশোধন এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধন। এ প্রকল্পে অতিরিক্ত ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় যুক্ত হওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতেও বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
রাস্তা নির্মাণের পর তিন বছর ঠিকাদারের দায়
একনেক সভায় অবকাঠামোর মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই তা মেরামত করতে হবে।
এ জন্য ভবিষ্যতের চুক্তিপত্রে প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টির শর্ত যুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে নির্মিত সড়কে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে গ্রামীণ ও স্থানীয় সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভবিষ্যতের সড়ক প্রকল্পে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

























