ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগস্টে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব সংবাদ :

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একক মাস হিসেবে এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টে এই রপ্তানি আয় ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।

শুধু আগস্ট নয়, নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে দেশটিতে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসের গড় হিসেবে হিসাব করলে মাসিক গড় ছিল প্রায় ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় আয় আগের বছরের তুলনায় বেশ ওপরে রয়েছে।

তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আগস্টের শক্তিশালী রপ্তানি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ওই মাসেই পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যেরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। গত অর্থবছরে পোশাকের বাইরে দেশটিতে প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং জুতা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব খাতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাক পণ্যের বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানিকারকদের প্রত্যাশা, সামনের মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা ও অর্ডার আরও বাড়তে পারে। এতে নতুন অর্থবছরে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগস্টে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

আপডেট সময় ০২:৫০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একক মাস হিসেবে এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টে এই রপ্তানি আয় ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।

শুধু আগস্ট নয়, নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে দেশটিতে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসের গড় হিসেবে হিসাব করলে মাসিক গড় ছিল প্রায় ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় আয় আগের বছরের তুলনায় বেশ ওপরে রয়েছে।

তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আগস্টের শক্তিশালী রপ্তানি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ওই মাসেই পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যেরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। গত অর্থবছরে পোশাকের বাইরে দেশটিতে প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং জুতা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব খাতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাক পণ্যের বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানিকারকদের প্রত্যাশা, সামনের মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা ও অর্ডার আরও বাড়তে পারে। এতে নতুন অর্থবছরে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।