ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ সম্প্রীতির বাগান, সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন এক অসাম্প্রদায়িক চেতনা, যেখানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজস্ব পরিচয় নিয়ে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। এই চেতনাকে বিভিন্ন রঙের ফুলে সাজানো একটি বাগানের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। ধর্মীয় উৎসব কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর আনন্দ ও তাৎপর্য সমাজের সব মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।

তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও অশুভ শক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সত্য, ন্যায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার যে বার্তা দুর্গাপূজা বহন করে, তা সমগ্র সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসব মানুষের মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিরাপদ পরিবেশে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন এবং উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী জানান, পূজার ছুটি বাড়ানো, পূজামণ্ডপের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী প্রদানের মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান

রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বাংলাদেশের সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করতে পারে। তবে দেশের ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে এমন অপচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে অধ্যাপক দেবাশীষ পালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ সম্প্রীতির বাগান, সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন এক অসাম্প্রদায়িক চেতনা, যেখানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজস্ব পরিচয় নিয়ে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। এই চেতনাকে বিভিন্ন রঙের ফুলে সাজানো একটি বাগানের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। ধর্মীয় উৎসব কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর আনন্দ ও তাৎপর্য সমাজের সব মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।

তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও অশুভ শক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সত্য, ন্যায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার যে বার্তা দুর্গাপূজা বহন করে, তা সমগ্র সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসব মানুষের মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিরাপদ পরিবেশে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন এবং উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী জানান, পূজার ছুটি বাড়ানো, পূজামণ্ডপের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী প্রদানের মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান

রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বাংলাদেশের সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করতে পারে। তবে দেশের ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে এমন অপচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে অধ্যাপক দেবাশীষ পালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।