ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভে তাণ্ডব, একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

নিজস্ব সংবাদ :

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। একদিনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সংঘটিত এসব সহিংসতায় সরকারি স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জননিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ হতাহতের ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

রাজধানী প্যারিসের রিপাবলিক স্কয়ার, লিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীদের একাংশ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকটি স্থানে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবরও পাওয়া যায়। লিমোজেস শহরে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক সিটি হল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সহিংসতার নিন্দা, স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস ম্যাক্রোঁর

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরা নাগরিকদের সঙ্গে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের এক করে দেখা উচিত নয়।

তিনি সহিংসতায় জড়িত অপরাধী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পর্যালোচনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি জরুরি অবস্থা জারির কোনো ঘোষণা দেননি।

গুরুতর আহত কিশোর-কিশোরী, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সাঁ-তেতিয়েনে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিস্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, মুলহাউসে এক কিশোরী চোখ হারিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একের পর এক সহিংস ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ

আসন্ন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টির নেতা মারিন ল্য পেন ও জর্ডান বারদেলা সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলেনশঁ বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সরকারের আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং এর জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সে আইনশৃঙ্খলা, সরকারি নীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর দেশটির নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলের।

সূত্র: গালফ নিউজ

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভে তাণ্ডব, একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। একদিনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সংঘটিত এসব সহিংসতায় সরকারি স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জননিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ হতাহতের ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

রাজধানী প্যারিসের রিপাবলিক স্কয়ার, লিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীদের একাংশ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকটি স্থানে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবরও পাওয়া যায়। লিমোজেস শহরে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক সিটি হল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সহিংসতার নিন্দা, স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস ম্যাক্রোঁর

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরা নাগরিকদের সঙ্গে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের এক করে দেখা উচিত নয়।

তিনি সহিংসতায় জড়িত অপরাধী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পর্যালোচনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি জরুরি অবস্থা জারির কোনো ঘোষণা দেননি।

গুরুতর আহত কিশোর-কিশোরী, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সাঁ-তেতিয়েনে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিস্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, মুলহাউসে এক কিশোরী চোখ হারিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একের পর এক সহিংস ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ

আসন্ন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টির নেতা মারিন ল্য পেন ও জর্ডান বারদেলা সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলেনশঁ বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সরকারের আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং এর জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সে আইনশৃঙ্খলা, সরকারি নীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর দেশটির নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলের।

সূত্র: গালফ নিউজ