ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় বিজিবির বড় প্রস্তুতি, মাঠে থাকবেন ১০ হাজার সদস্য

নিজস্ব সংবাদ :

২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সহায়তা | ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে বাড়তি নজরদারি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে অবস্থিত মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন বাহিনীর সদস্যরা। এ লক্ষ্যে আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হবে, যাতে পূজার সময় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত টহল পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

রাজধানীর নিরাপত্তায়ও সমন্বিত প্রস্তুতি

রাজধানী ঢাকায় বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী সেখানে বাহিনীর দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি।

নির্বিঘ্ন উৎসব নিশ্চিত করাই লক্ষ্য

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। সীমান্ত থেকে রাজধানী—প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে উৎসবকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে বাহিনীটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় বিজিবির বড় প্রস্তুতি, মাঠে থাকবেন ১০ হাজার সদস্য

আপডেট সময় ০৩:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সহায়তা | ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে বাড়তি নজরদারি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে অবস্থিত মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন বাহিনীর সদস্যরা। এ লক্ষ্যে আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হবে, যাতে পূজার সময় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত টহল পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

রাজধানীর নিরাপত্তায়ও সমন্বিত প্রস্তুতি

রাজধানী ঢাকায় বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী সেখানে বাহিনীর দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি।

নির্বিঘ্ন উৎসব নিশ্চিত করাই লক্ষ্য

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। সীমান্ত থেকে রাজধানী—প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে উৎসবকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে বাহিনীটি।