ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব-কাতারের সঙ্গে নতুন সমীকরণ, নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী এসিডব্লিউএ পাওয়ার

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তৎপর হয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সৌদি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরামের ১৭তম আয়োজনের সাইডলাইনে পৃথক এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, এলএনজি আমদানি, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সৌদি আরবের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৈঠকের শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন তিনি। হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির কথাও তুলে ধরেন। এ ঘটনায় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টি সৌদি প্রতিনিধিকে জানান তিনি।

এ ছাড়া হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনার কথা জানানো হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আশাবাদও প্রকাশ করেন সৌদি মন্ত্রী।

আলোচনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সৌদি আরবের সহায়তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ, ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।

কাতারের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে এলএনজি আমদানির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৈঠকে বিদ্যমান আমদানি ব্যবস্থার পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগও খতিয়ে দেখা হয়।

একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহের উৎস ও পরিবহনপথ বহুমুখী করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহ এসিডব্লিউএ পাওয়ারের

এদিকে সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে এ খাতে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ, সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের আলোচনা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা

বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা, কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেশের জ্বালানি পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তবে এসব আলোচনার সুফল নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে চুক্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রগতির ওপর। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব-কাতারের সঙ্গে নতুন সমীকরণ, নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী এসিডব্লিউএ পাওয়ার

আপডেট সময় ০২:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তৎপর হয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সৌদি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরামের ১৭তম আয়োজনের সাইডলাইনে পৃথক এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, এলএনজি আমদানি, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সৌদি আরবের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৈঠকের শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন তিনি। হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির কথাও তুলে ধরেন। এ ঘটনায় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টি সৌদি প্রতিনিধিকে জানান তিনি।

এ ছাড়া হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনার কথা জানানো হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আশাবাদও প্রকাশ করেন সৌদি মন্ত্রী।

আলোচনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সৌদি আরবের সহায়তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ, ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।

কাতারের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে এলএনজি আমদানির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৈঠকে বিদ্যমান আমদানি ব্যবস্থার পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগও খতিয়ে দেখা হয়।

একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহের উৎস ও পরিবহনপথ বহুমুখী করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহ এসিডব্লিউএ পাওয়ারের

এদিকে সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে এ খাতে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ, সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের আলোচনা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা

বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা, কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেশের জ্বালানি পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তবে এসব আলোচনার সুফল নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে চুক্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রগতির ওপর। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।