ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকেন্দ্রিক রাজনীতির অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন আবদুর রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ, রাজনৈতিক জোট নিয়ে অসন্তোষ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সংকটের কথা উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান। দলটির আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তা প্রকাশ করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে এনসিপি গঠনের উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। বহুত্ববাদ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনার যে প্রতিশ্রুতি দলটি দিয়েছিল, তা থেকেই তার এই রাজনৈতিক যাত্রা শুরু।

তবে সময়ের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন আবদুর রহমান। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে দলটির আদর্শিক প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। এতে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রয়োজনে জোট গঠন এবং আদর্শগতভাবে একই অবস্থানে পৌঁছানো এক বিষয় নয়। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির ক্ষেত্রে এই দুইয়ের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক সম্ভাবনাময় নেতাকর্মী সংগঠন ছেড়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দলের ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবদুর রহমান। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত মতামত প্রকাশ করলেই তাকে ‘মুজিববাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার মতে, ভিন্নমতকে এভাবে চিহ্নিত করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসনামলের মূল্যায়নকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন তিনি। আবদুর রহমানের বক্তব্য, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অথচ এনসিপির কিছু নেতাকর্মীর অবস্থান জামায়াত-শিবিরের ঐতিহাসিক বয়ানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এতে দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

এসব রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে এনসিপির সঙ্গে আর পথচলা সম্ভব নয় বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন আবদুর রহমান। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য দলীয় আহ্বায়কের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি।

তবে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের মধ্যেও এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন এই নেতা। তার আশা, দলটি ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

আবদুর রহমানের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এনসিপির রাজনৈতিক জোট, আদর্শিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পদত্যাগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জামায়াতকেন্দ্রিক রাজনীতির অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন আবদুর রহমান

আপডেট সময় ০৩:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ, রাজনৈতিক জোট নিয়ে অসন্তোষ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সংকটের কথা উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান। দলটির আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তা প্রকাশ করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে এনসিপি গঠনের উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। বহুত্ববাদ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনার যে প্রতিশ্রুতি দলটি দিয়েছিল, তা থেকেই তার এই রাজনৈতিক যাত্রা শুরু।

তবে সময়ের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন আবদুর রহমান। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে দলটির আদর্শিক প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। এতে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রয়োজনে জোট গঠন এবং আদর্শগতভাবে একই অবস্থানে পৌঁছানো এক বিষয় নয়। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির ক্ষেত্রে এই দুইয়ের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক সম্ভাবনাময় নেতাকর্মী সংগঠন ছেড়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দলের ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবদুর রহমান। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত মতামত প্রকাশ করলেই তাকে ‘মুজিববাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার মতে, ভিন্নমতকে এভাবে চিহ্নিত করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসনামলের মূল্যায়নকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন তিনি। আবদুর রহমানের বক্তব্য, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অথচ এনসিপির কিছু নেতাকর্মীর অবস্থান জামায়াত-শিবিরের ঐতিহাসিক বয়ানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এতে দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

এসব রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে এনসিপির সঙ্গে আর পথচলা সম্ভব নয় বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন আবদুর রহমান। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য দলীয় আহ্বায়কের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি।

তবে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের মধ্যেও এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন এই নেতা। তার আশা, দলটি ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

আবদুর রহমানের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এনসিপির রাজনৈতিক জোট, আদর্শিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পদত্যাগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।