ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাফর ইকবাল-মাকসুদ কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

পরোয়ানাভুক্ত অপর তিনজন হলেন—নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন।

ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানাভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলায় মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাকি তিন আসামি হলেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং আন্দোলন দমনে উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার মতো কর্মকাণ্ডে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময়ের সহিংসতায় কয়েকজন নিহত এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হন।

রোববারের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

তবে আদালতে অভিযোগ আমলে নেওয়া বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাফর ইকবাল-মাকসুদ কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ০৩:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

পরোয়ানাভুক্ত অপর তিনজন হলেন—নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন।

ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানাভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলায় মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাকি তিন আসামি হলেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং আন্দোলন দমনে উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার মতো কর্মকাণ্ডে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময়ের সহিংসতায় কয়েকজন নিহত এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হন।

রোববারের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

তবে আদালতে অভিযোগ আমলে নেওয়া বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।