ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার মামলায় স্ত্রীকে ৭ বছরের সাজা, ভোগ করতে হবে ৪ বছর
রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্ত্রী মোছা. রুমা আক্তারকে দুই ধারায় মোট সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে চার বছর কারাভোগ করতে হবে।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুই ধারায় রুমাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রতিটি ধারায় ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিটি ধারায় আরও এক মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে সিয়াম ও রুমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় একটি বাসায় বসবাস করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে কেটে দেন রুমা—এমন অভিযোগে মামলা করা হয়।
ঘটনার দিনই সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৫ মে রুমাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক ফেরদৌস আলম।
পরে ১০ নভেম্বর আদালতে রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিচার চলাকালে মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত রুমাকে দুই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় কার্যত চার বছর কারাগারে থাকতে হবে তাকে।


























