ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি, জাতীয় গ্রিডে উঠল ২,৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট

নিজস্ব সংবাদ :

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র গ্যাস সংকটের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ার কারণেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় যেখানে মোট সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার দুপুরে সরবরাহ ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়।

এর আগে সোমবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। তার পরদিনই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কেটে যায়নি। দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বলে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে বর্তমান সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।

বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ঘাটতি এখনো রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এই উন্নতি কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলএনজি আমদানিতে বাড়তি চাপ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসব কার্গোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহ করা হয়েছে। উচ্চ আন্তর্জাতিক দামের মধ্যেও অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, যা তাদের সম্মিলিত সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে স্থায়ী স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শুধু সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন, নিয়মিত এলএনজি আমদানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই হবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি, জাতীয় গ্রিডে উঠল ২,৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট

আপডেট সময় ০২:২৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র গ্যাস সংকটের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ার কারণেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় যেখানে মোট সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার দুপুরে সরবরাহ ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়।

এর আগে সোমবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। তার পরদিনই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কেটে যায়নি। দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বলে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে বর্তমান সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।

বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ঘাটতি এখনো রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এই উন্নতি কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলএনজি আমদানিতে বাড়তি চাপ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসব কার্গোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহ করা হয়েছে। উচ্চ আন্তর্জাতিক দামের মধ্যেও অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, যা তাদের সম্মিলিত সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে স্থায়ী স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শুধু সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন, নিয়মিত এলএনজি আমদানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই হবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।