ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি, ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

কাগজের খবর ডেস্ক:

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি

কানাডার কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনকে কেন্দ্র করে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা (সিবিএসএ)।

গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ সংস্থাটি এ অভিযোগের কথা জানায়। সিবিএসএর অভিযোগ, কানাডার নাগরিকদের ভুলভাবে আবেদনকারীদের আতিথ্যদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিথ্যা তথ্য ও জাল নথি ব্যবহার করে অস্থায়ী আবাসিক ভিসা (টিআরভি) পাওয়ার চেষ্টা করেছিল ওই চক্র।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চারজন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন।

পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জালিয়াতির অভিযোগের ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে তদন্তকারীরা ২৪৩টি ভিসা আবেদনের মধ্যে ৭৯টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য বেছে নেন। সিবিএসএর ভাষ্য, এসব আবেদনে অভিযোগের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ে শহরের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে বসবাসকারীদের বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালান সিবিএসএর কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ছিলেন।

তদন্তে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট (আইআরপিএ) লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।

এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুন সিবিএসএর ফৌজদারি তদন্তকারীরা কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। এ সময় জব্দ করা নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জামের সঙ্গে পাঁচ অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডায় অবৈধভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পরামর্শ এবং আইআরপিএ লঙ্ঘনে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইনটির সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধ প্রবেশের আয়োজন বা এতে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপনে সহায়তা এবং আইন লঙ্ঘনে জেনেশুনে উৎসাহিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিবিএসএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরপিএ লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

অভিবাসন জালিয়াতির সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে জনসাধারণকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি, ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৭:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

কানাডার কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনকে কেন্দ্র করে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা (সিবিএসএ)।

গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ সংস্থাটি এ অভিযোগের কথা জানায়। সিবিএসএর অভিযোগ, কানাডার নাগরিকদের ভুলভাবে আবেদনকারীদের আতিথ্যদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিথ্যা তথ্য ও জাল নথি ব্যবহার করে অস্থায়ী আবাসিক ভিসা (টিআরভি) পাওয়ার চেষ্টা করেছিল ওই চক্র।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চারজন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন।

পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জালিয়াতির অভিযোগের ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে তদন্তকারীরা ২৪৩টি ভিসা আবেদনের মধ্যে ৭৯টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য বেছে নেন। সিবিএসএর ভাষ্য, এসব আবেদনে অভিযোগের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ে শহরের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে বসবাসকারীদের বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালান সিবিএসএর কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ছিলেন।

তদন্তে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট (আইআরপিএ) লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।

এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুন সিবিএসএর ফৌজদারি তদন্তকারীরা কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। এ সময় জব্দ করা নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জামের সঙ্গে পাঁচ অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডায় অবৈধভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পরামর্শ এবং আইআরপিএ লঙ্ঘনে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইনটির সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধ প্রবেশের আয়োজন বা এতে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপনে সহায়তা এবং আইন লঙ্ঘনে জেনেশুনে উৎসাহিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিবিএসএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরপিএ লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

অভিবাসন জালিয়াতির সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে জনসাধারণকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।