ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবারই প্রথম ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

নিজস্ব সংবাদ :

মামুন রেজা, বিভাগীয় প্রতিনিধি, রাজশাহী:

এবার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী হলো রাজশাহী নগরী। পুরো শহর বা জনসভাস্থল—কোথাও দেখা মেলেনি কোনো ব্যানার, পোস্টার বা ফেস্টুনের। অতিরিক্ত প্রচারসামগ্রী না থাকায় পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রূপ নিয়েছে পুরো এলাকা, যা নগরবাসীর মনে এনে দিয়েছে স্বস্তি।

সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন দৃশ্য বিরল হলেও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। লাখ লাখ টাকা খরচ করে এসব ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর ফলে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে পড়েন। নাগরিকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক দল বা শীর্ষ নেতার সফরের ক্ষেত্রেও যেন এমন ব্যানার-ফেস্টুনমুক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরীকে সুসজ্জিত ও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে ব্যাপক কর্মতৎপরতা চালায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এক দিনে দেশের তিন বিভাগ (রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম) সফরের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার তিনি রাজশাহীতে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি দুই পাশের অননুমোদিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার), বিমান চত্বর এলাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নতুন রঙ করার কাজ বাস্তবায়ন করেছে সিটি করপোরেশন। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও সফর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহীর রাস্তায় রাস্তায় ফুল এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানায়।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হন। ততক্ষণে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাদ্রাসা ময়দান। আশপাশের জেলাগুলো থেকে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়া কেবল দলীয় এবং জাতীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন হাজার হাজার মানুষ। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে এবং তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শুনতে নারী, পুরুষ, প্রবীণসহ সর্বস্তরের মানুষ মাঠে অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে রাজশাহীর কৃষি খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার আশ্বাস পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এবারই প্রথম ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

আপডেট সময় ০১:২৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মামুন রেজা, বিভাগীয় প্রতিনিধি, রাজশাহী:

এবার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী হলো রাজশাহী নগরী। পুরো শহর বা জনসভাস্থল—কোথাও দেখা মেলেনি কোনো ব্যানার, পোস্টার বা ফেস্টুনের। অতিরিক্ত প্রচারসামগ্রী না থাকায় পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রূপ নিয়েছে পুরো এলাকা, যা নগরবাসীর মনে এনে দিয়েছে স্বস্তি।

সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন দৃশ্য বিরল হলেও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। লাখ লাখ টাকা খরচ করে এসব ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর ফলে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে পড়েন। নাগরিকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক দল বা শীর্ষ নেতার সফরের ক্ষেত্রেও যেন এমন ব্যানার-ফেস্টুনমুক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরীকে সুসজ্জিত ও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে ব্যাপক কর্মতৎপরতা চালায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এক দিনে দেশের তিন বিভাগ (রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম) সফরের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার তিনি রাজশাহীতে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি দুই পাশের অননুমোদিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার), বিমান চত্বর এলাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নতুন রঙ করার কাজ বাস্তবায়ন করেছে সিটি করপোরেশন। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও সফর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহীর রাস্তায় রাস্তায় ফুল এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানায়।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হন। ততক্ষণে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাদ্রাসা ময়দান। আশপাশের জেলাগুলো থেকে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়া কেবল দলীয় এবং জাতীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন হাজার হাজার মানুষ। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে এবং তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শুনতে নারী, পুরুষ, প্রবীণসহ সর্বস্তরের মানুষ মাঠে অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে রাজশাহীর কৃষি খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার আশ্বাস পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করবেন।