চাঁদপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দেলোয়ার শিকদার ওরফে দেলু শিকদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
শিশুটির পরিবারের দাবি, ঘটনার পর বিচার ও চিকিৎসার সহায়তা চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ শিশুটির পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শিশুটির নানা আলমাছ তাকে নিয়ে অভিযুক্ত দেলু শিকদারের বাড়িতে যান। সেখানে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখছিল শিশুটি। একপর্যায়ে শিশুটিকে সেখানে রেখে নানা চলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরেন বলেও দাবি পরিবারের।
শিশুটির মা জানান, মেয়েকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য অভিযুক্তের পরিবারের কাছে সহায়তা চাইতে যান তিনি। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন। পরে চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে দাবি তার।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে ১ নভেম্বর দিনগত রাতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
ওসি মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর বলেন, সরদারকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত দেলোয়ার শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। ভুক্তভোগী শিশুর ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির পরিবারের পরিচিত ও প্রতিবেশী ছিলেন। শিশুটি তাকে দাদা কিংবা বড় আব্বু বলে ডাকত। পরিবারের সঙ্গে তার এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল যে, তার কাছ থেকে এমন আচরণ কেউ আশঙ্কা করেনি।

























