ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল সংঘর্ষ, এমপিদের ঘুসি-লাথি

কাগজের খবর ডেস্ক:

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল সংঘর্ষ

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিবেশন চলাকালে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের সদস্যদের ঘুসি ও লাথি বিনিময় করতে দেখা যায়।

পার্লামেন্টের সরাসরি সম্প্রচারে ধরা পড়ে সংঘর্ষের পুরো দৃশ্য। একপর্যায়ে হাতাহাতি সংসদকক্ষ ছাড়িয়ে করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অডিট চেম্বারের একজন সদস্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনার সময় এ ঘটনার সূত্রপাত।

আলোচনার একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা তারন চাখোয়ান বিরোধী দলীয় নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের এক আত্মীয়ের নির্বাচনের আগে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।

আর্মেনিয়ার সংবাদ সংস্থা আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাখোয়ান কারাপেতিয়ানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে নারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য একটি আলাদা ‘মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার চাচাতো ভাই। ওই মন্তব্যের জন্য এখনো ক্ষমা চাওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চাখোয়ানের এ বক্তব্যের জবাবে প্রথমে নিজের আসনে বসেই কথা বলেন কারাপেতিয়ান। পরে তিনি বক্তৃতার মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের আইনপ্রণেতারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

মৌখিক বিতর্ক দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। পার্লামেন্টের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একে অপরকে ঘুসি ও লাথি মারছেন। সংঘর্ষ একপর্যায়ে সংসদকক্ষ থেকে বেরিয়ে করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ফুটেজে দেশটির ডেপুটি স্পিকার ভাহাগন আলেক্সানিয়ানকে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য আইনপ্রণেতাদের হিমশিম খেতে হয়। সংঘর্ষের সময় অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

পার্লামেন্টের স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান এ ঘটনার জন্য বিরোধী দলীয় নেতা কারাপেতিয়ানকে দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য, বিরতির সময় তিনি সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেছেন। তবে তারন চাখোয়ানের বক্তব্যে আপত্তিকর কিছু পাননি।

আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদনে রুবিনিয়ানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কারাপেতিয়ান নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তিনি প্রথমে আসনে বসে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং পরে উঠে দাঁড়িয়ে চাখোয়ানকে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন স্পিকার।

রুবিনিয়ান আরও দাবি করেন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা গারনিক দাভতিয়ান চাখোয়ানকে আঘাত করেন। পার্লামেন্টের ভেতরে কী ঘটেছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার জন্যই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করেননি বলেও জানান।

সংঘর্ষের পর সংসদ ভবনে একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। ইউক্রেনীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়ার আইনপ্রণেতা আন্দ্রানিক গেভোরগিয়ানের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। একই দলের আরেক আইনপ্রণেতা রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাকও ছিঁড়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তাকর্মীরা সংসদ ভবনের করিডোরে সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ এবারই প্রথম নয়। এর আগে অক্টোবরের শুরুর দিকে দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে আরেক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সেবার বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়ার আইনপ্রণেতা এডগার গাজারিয়ান স্পিকার রুবিনিয়ানের বিরুদ্ধে এমপিদের বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সেবারের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক এ ঘটনা আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল সংঘর্ষ, এমপিদের ঘুসি-লাথি

আপডেট সময় ০৮:১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিবেশন চলাকালে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের সদস্যদের ঘুসি ও লাথি বিনিময় করতে দেখা যায়।

পার্লামেন্টের সরাসরি সম্প্রচারে ধরা পড়ে সংঘর্ষের পুরো দৃশ্য। একপর্যায়ে হাতাহাতি সংসদকক্ষ ছাড়িয়ে করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অডিট চেম্বারের একজন সদস্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনার সময় এ ঘটনার সূত্রপাত।

আলোচনার একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা তারন চাখোয়ান বিরোধী দলীয় নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের এক আত্মীয়ের নির্বাচনের আগে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।

আর্মেনিয়ার সংবাদ সংস্থা আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাখোয়ান কারাপেতিয়ানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে নারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য একটি আলাদা ‘মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার চাচাতো ভাই। ওই মন্তব্যের জন্য এখনো ক্ষমা চাওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চাখোয়ানের এ বক্তব্যের জবাবে প্রথমে নিজের আসনে বসেই কথা বলেন কারাপেতিয়ান। পরে তিনি বক্তৃতার মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের আইনপ্রণেতারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

মৌখিক বিতর্ক দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। পার্লামেন্টের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একে অপরকে ঘুসি ও লাথি মারছেন। সংঘর্ষ একপর্যায়ে সংসদকক্ষ থেকে বেরিয়ে করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ফুটেজে দেশটির ডেপুটি স্পিকার ভাহাগন আলেক্সানিয়ানকে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য আইনপ্রণেতাদের হিমশিম খেতে হয়। সংঘর্ষের সময় অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

পার্লামেন্টের স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান এ ঘটনার জন্য বিরোধী দলীয় নেতা কারাপেতিয়ানকে দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য, বিরতির সময় তিনি সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেছেন। তবে তারন চাখোয়ানের বক্তব্যে আপত্তিকর কিছু পাননি।

আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদনে রুবিনিয়ানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কারাপেতিয়ান নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তিনি প্রথমে আসনে বসে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং পরে উঠে দাঁড়িয়ে চাখোয়ানকে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন স্পিকার।

রুবিনিয়ান আরও দাবি করেন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা গারনিক দাভতিয়ান চাখোয়ানকে আঘাত করেন। পার্লামেন্টের ভেতরে কী ঘটেছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার জন্যই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করেননি বলেও জানান।

সংঘর্ষের পর সংসদ ভবনে একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। ইউক্রেনীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়ার আইনপ্রণেতা আন্দ্রানিক গেভোরগিয়ানের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। একই দলের আরেক আইনপ্রণেতা রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাকও ছিঁড়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তাকর্মীরা সংসদ ভবনের করিডোরে সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ এবারই প্রথম নয়। এর আগে অক্টোবরের শুরুর দিকে দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে আরেক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সেবার বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়ার আইনপ্রণেতা এডগার গাজারিয়ান স্পিকার রুবিনিয়ানের বিরুদ্ধে এমপিদের বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সেবারের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক এ ঘটনা আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।