ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কাজে দেবে না : রাশেদ খাঁন

কাগজের খবর ডেস্ক:

রাশেদ খান

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কোথাও কাজে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। দলটির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ধর্মীয় লেবাসে দলটির নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের কাছে দলটির ইসলামি পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না। অভিনন্দন এমপি মির্জা ফয়সল আমীন….!’

পোস্টে জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাশেদ খান লেখেন, জনগণ বুঝে গেছে, দলটির মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছেন। তার অভিযোগ, দলটির অসংখ্য নেতার পরকীয়ার খবর নিয়মিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মনে করা এবং ‘আগে ছিল হিন্দু মানে নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা’—এমন মনোভাবেরও সমালোচনা করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের একজন আইনজীবী শহিদ আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয়েছেন। তার দাবি, দলটি সকালে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও রাতে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। এসব অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, যে দল নিজেদের নেতাকর্মীদের জান্নাতের পথ দেখাতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা কীভাবে জনগণকে হেদায়েতের পথ দেখাবে?

পোস্টে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের বক্তব্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি লিখেন, জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে মুফতি আবদুল মালেক মন্তব্য করেছেন, যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন, তারা পথভ্রষ্ট হবেন।

রাশেদ খান লেখেন, জামায়াতের দেখানো জান্নাতের পথে হেঁটে মানুষ আর ‘দাজ্জালের জান্নাতে’ যেতে আগ্রহী হবে না। তার অভিযোগ, মুফতি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ওয়াজের মাঠে আমির হামজা ও তারেক মনোয়ারের মতো ব্যক্তিদের নামিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা সম্ভব হলেও জনগণের কাছে জামায়াতকে আর ইসলামি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে ‘কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করব?’—এমন বক্তব্য দেওয়া দলকে ইসলামি দল বলা যায় না বলে তিনি মনে করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কাজে দেবে না : রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কোথাও কাজে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। দলটির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ধর্মীয় লেবাসে দলটির নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের কাছে দলটির ইসলামি পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না। অভিনন্দন এমপি মির্জা ফয়সল আমীন….!’

পোস্টে জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাশেদ খান লেখেন, জনগণ বুঝে গেছে, দলটির মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছেন। তার অভিযোগ, দলটির অসংখ্য নেতার পরকীয়ার খবর নিয়মিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মনে করা এবং ‘আগে ছিল হিন্দু মানে নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা’—এমন মনোভাবেরও সমালোচনা করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের একজন আইনজীবী শহিদ আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয়েছেন। তার দাবি, দলটি সকালে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও রাতে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। এসব অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, যে দল নিজেদের নেতাকর্মীদের জান্নাতের পথ দেখাতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা কীভাবে জনগণকে হেদায়েতের পথ দেখাবে?

পোস্টে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের বক্তব্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি লিখেন, জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে মুফতি আবদুল মালেক মন্তব্য করেছেন, যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন, তারা পথভ্রষ্ট হবেন।

রাশেদ খান লেখেন, জামায়াতের দেখানো জান্নাতের পথে হেঁটে মানুষ আর ‘দাজ্জালের জান্নাতে’ যেতে আগ্রহী হবে না। তার অভিযোগ, মুফতি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ওয়াজের মাঠে আমির হামজা ও তারেক মনোয়ারের মতো ব্যক্তিদের নামিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা সম্ভব হলেও জনগণের কাছে জামায়াতকে আর ইসলামি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে ‘কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করব?’—এমন বক্তব্য দেওয়া দলকে ইসলামি দল বলা যায় না বলে তিনি মনে করেন।