ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

কাগজের খবর ডেস্ক:

স্ট্রোকের লক্ষণ

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু কিংবা স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়ে। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা কমানো সম্ভব। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ চেনা, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি মিনিট মূল্যবান’।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করা উচিত নয়। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও অবহেলা করা যাবে না। এটি ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হতে পারে, যা পরবর্তী স্ট্রোকের সতর্কসংকেত।

স্ট্রোকের রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণত উপসর্গ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রক্তের জমাট গলানোর ওষুধ প্রয়োগের সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বন্ধ রক্তনালি খুলতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমাট রক্ত অপসারণও করা যায়। তবে সচেতনতার অভাব, হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সীমিত সুযোগের কারণে অনেক রোগী এসব চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

একসময় স্ট্রোককে প্রবীণদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সের মানুষের মধ্যেও এ রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, ধূমপান, স্থূলতা, অনিয়মিত জীবনযাপন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হতে পারে।

‘গোল্ডেন আওয়ার’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে আক্রান্ত অংশে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় রক্তনালি বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ নষ্ট হতে পারে। চিকিৎসা শুরু করতে যত দেরি হয়, মস্তিষ্কের ক্ষতি ও স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তত বাড়ে।

ইস্কেমিক স্ট্রোকের উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে শিরাপথে থ্রম্বোলাইসিসের মাধ্যমে রক্তের জমাট গলানোর চিকিৎসা দেওয়া যায়। মস্তিষ্কের বড় রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি নামে উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। এ পদ্ধতিতে ক্যাথেটারের সাহায্যে বন্ধ রক্তনালিতে পৌঁছে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে জমাট রক্ত অপসারণের চেষ্টা করা হয়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপসর্গ শুরুর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এ চিকিৎসার সুযোগ থাকতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ, মস্তিষ্কে রক্তনালি বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হতে পারে, আবার রক্তনালি ফেটেও স্ট্রোক হতে পারে। দ্রুত পরীক্ষা করে স্ট্রোকের ধরন নির্ধারণের পর চিকিৎসা শুরু করতে হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

আপডেট সময় ০৭:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু কিংবা স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়ে। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা কমানো সম্ভব। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ চেনা, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি মিনিট মূল্যবান’।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করা উচিত নয়। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও অবহেলা করা যাবে না। এটি ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হতে পারে, যা পরবর্তী স্ট্রোকের সতর্কসংকেত।

স্ট্রোকের রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণত উপসর্গ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রক্তের জমাট গলানোর ওষুধ প্রয়োগের সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বন্ধ রক্তনালি খুলতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমাট রক্ত অপসারণও করা যায়। তবে সচেতনতার অভাব, হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সীমিত সুযোগের কারণে অনেক রোগী এসব চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

একসময় স্ট্রোককে প্রবীণদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সের মানুষের মধ্যেও এ রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, ধূমপান, স্থূলতা, অনিয়মিত জীবনযাপন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হতে পারে।

‘গোল্ডেন আওয়ার’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে আক্রান্ত অংশে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় রক্তনালি বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ নষ্ট হতে পারে। চিকিৎসা শুরু করতে যত দেরি হয়, মস্তিষ্কের ক্ষতি ও স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তত বাড়ে।

ইস্কেমিক স্ট্রোকের উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে শিরাপথে থ্রম্বোলাইসিসের মাধ্যমে রক্তের জমাট গলানোর চিকিৎসা দেওয়া যায়। মস্তিষ্কের বড় রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি নামে উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। এ পদ্ধতিতে ক্যাথেটারের সাহায্যে বন্ধ রক্তনালিতে পৌঁছে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে জমাট রক্ত অপসারণের চেষ্টা করা হয়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপসর্গ শুরুর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এ চিকিৎসার সুযোগ থাকতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ, মস্তিষ্কে রক্তনালি বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হতে পারে, আবার রক্তনালি ফেটেও স্ট্রোক হতে পারে। দ্রুত পরীক্ষা করে স্ট্রোকের ধরন নির্ধারণের পর চিকিৎসা শুরু করতে হয়।