ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে ১১০০ বাড়ি ও ১০টির বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলামের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদ :

আসামে বাঙালি মুসলিমদের বসতবাড়ি ও মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের নামে বহু পরিবারকে গৃহহীন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আসামে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজার ১০০টিরও বেশি বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই অভিযানে ১০টির বেশি মসজিদ ধ্বংসের অভিযোগও উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদগুলোর কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার যুক্তি দেখানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের বসবাসের সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কোনো পরিবার ভারতের স্বাধীনতার আগ থেকেই এসব অঞ্চলে বসবাস করে আসছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ব্যবস্থা না করেই বহু পরিবারকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। উচ্ছেদের পর কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখার খবরও পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের মতে, এ ঘটনা ভারতে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন, জোর করে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। গত এক দশকে ভারতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসামের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক পরিবেশে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

ভারত সরকারের জবাবদিহি চাইলেন নাহিদ

আসামের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।”

তাঁর এই বক্তব্যে আসামের উচ্ছেদ অভিযান, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আসামে ১১০০ বাড়ি ও ১০টির বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলামের তীব্র প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৪:১৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আসামে বাঙালি মুসলিমদের বসতবাড়ি ও মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের নামে বহু পরিবারকে গৃহহীন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আসামে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজার ১০০টিরও বেশি বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই অভিযানে ১০টির বেশি মসজিদ ধ্বংসের অভিযোগও উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদগুলোর কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার যুক্তি দেখানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের বসবাসের সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কোনো পরিবার ভারতের স্বাধীনতার আগ থেকেই এসব অঞ্চলে বসবাস করে আসছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ব্যবস্থা না করেই বহু পরিবারকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। উচ্ছেদের পর কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখার খবরও পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের মতে, এ ঘটনা ভারতে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন, জোর করে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। গত এক দশকে ভারতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসামের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক পরিবেশে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

ভারত সরকারের জবাবদিহি চাইলেন নাহিদ

আসামের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।”

তাঁর এই বক্তব্যে আসামের উচ্ছেদ অভিযান, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।