ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষকের মারামারি, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

নিজস্ব সংবাদ :

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ঘটনাটি শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে, বিকেলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ অনভিপ্রেত এবং অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লিখিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাদের এক মেয়ে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছেন। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের পেশাগত আচরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষকের মারামারি, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

আপডেট সময় ০৩:১৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ঘটনাটি শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে, বিকেলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ অনভিপ্রেত এবং অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লিখিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাদের এক মেয়ে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছেন। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের পেশাগত আচরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।