ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু ঠেকাতে সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ এবং প্রতিদিন যাতায়াতের পথে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

বার্তায় তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, রাস্তাঘাট কিংবা মানুষের চলাচল ও সমাগম হয়—এমন জায়গায় জমে থাকা পানি ডেঙ্গুবাহী মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সম্মিলিত উদ্যোগেই কমবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন, অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করা গেলে বহু পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি বাংলাদেশের অতীতের বিভিন্ন সম্মিলিত অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও একইভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে কাজ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

টিকার চেয়ে প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু টিকার ওপর নির্ভর না করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত বলে দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই সরকারের পক্ষে বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সরকার ও জনগণের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সপ্তাহে দুই দিন, সবার অংশগ্রহণ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি, আশপাশের এলাকা ও চলাচলের পথ পরিষ্কারে দায়িত্বশীল হলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

তাই ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নির্দিষ্ট সময় বের করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর আহ্বান, ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান—সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডেঙ্গু ঠেকাতে সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৩:০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ এবং প্রতিদিন যাতায়াতের পথে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

বার্তায় তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, রাস্তাঘাট কিংবা মানুষের চলাচল ও সমাগম হয়—এমন জায়গায় জমে থাকা পানি ডেঙ্গুবাহী মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সম্মিলিত উদ্যোগেই কমবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন, অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করা গেলে বহু পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি বাংলাদেশের অতীতের বিভিন্ন সম্মিলিত অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও একইভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে কাজ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

টিকার চেয়ে প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু টিকার ওপর নির্ভর না করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত বলে দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই সরকারের পক্ষে বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সরকার ও জনগণের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সপ্তাহে দুই দিন, সবার অংশগ্রহণ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি, আশপাশের এলাকা ও চলাচলের পথ পরিষ্কারে দায়িত্বশীল হলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

তাই ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নির্দিষ্ট সময় বের করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর আহ্বান, ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান—সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।