ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগে যে কারণে

কাগজের খবর ডেস্ক:

ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগে যে কারণে

শরীর-মন সতেজ রাখতে ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন রাতভর নিয়মমতো আট ঘণ্টা ঘুম হলেও সকালে ওঠার পর শরীরে অজানা ক্লান্তি, মাথা ভারি লাগা ও মনোযোগের ঘাটতির অনুভূতি থাকে। দিন কাটাতে মন চঞ্চল থাকে না, উৎসাহ ও উদ্দীপনাও কমে যায়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় ডায়েটে ছোটখাটো পরিবর্তনই কার্যকর হতে পারে।

চাহিদাসম্পন্ন অফিসের দিন হোক বা ছুটির সকালে, যদি ঘুম থেকে উঠেই শরীর ক্লান্তি বয়ে নিয়ে আসে, তবে বোঝা উচিত শরীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারছে না। আয়রনের অভাব, অনিয়মিত বা পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাসও এর পেছনের কারণ হতে পারে। তবে আশঙ্কার কিছু নেই- খাদ্য তালিকায় সঠিক খাবার অন্তর্ভুক্ত করলেই শরীর ফিরে পাবে নতুন শক্তি ও উদ্যম।

ঘুম নষ্ট হওয়ার কারণগুলো হল

১। ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে ঘুম গভীর স্তরে পৌঁছাতে পারে না। এতে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না।

২। স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যেখানে ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য। এতে ঘুম বারবার ভেঙে যায় এবং সকালে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা ঝিমুনি দেখা দেয়।

৩। বিকেলে ক্যাফেইন গ্রহণ: বিকেল বা রাতে চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক গ্রহণ করলে ঘুমের গুণমান নষ্ট হয়, ফলে ঘুম আসতেও দেরি হয়।

৪। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম: মোবাইল, ট্যাব বা টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমায়, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

৫। ঘুমের সময়সূচিতে অনিয়ম: প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া বা জেগে ওঠা শরীরের প্রাকৃতিক ‘বডি ক্লক’কে ব্যাহত করে, ফলে ঘুমের মান নষ্ট হয়।

ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান ও একই সময়ে জেগে উঠুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন। ঘর যেন ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত থাকে, তা নিশ্চিত করুন। রাতে হালকা ও কম মসলাযুক্ত খাবার খান। সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল পরিহার করুন। ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন অভ্যাস করুন।

যে-সব খাবার দূর করবে ক্লান্তি
কলা: কলা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। ফাইবার, পটাশিয়াম আর কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর এই ফল এনার্জি ড্রিঙ্কের থেকেও কার্যকর। শরীরচর্চার আগে বা পরে খেলে ক্লান্তি দ্রুত কেটে যায়।

ডার্ক চকোলেট: মেজাজ ভালো রাখার সঙ্গী- অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর ডার্ক চকোলেট স্নায়ু সক্রিয় রাখে, ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়ায়। ফলে শরীর শুধু চাঙ্গা নয়, মনও থাকে প্রফুল্ল।

ডিম: ডিমে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাট। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরের ভেতর থেকে শক্তি মেলে, কমে ক্লান্তি।

কাঠবাদাম: ভেজানো বাদাম ভিটামিন ই ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ। এটি ক্লান্তি দূর করে শরীরকে করে চনমনে। তবে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগে যে কারণে

আপডেট সময় ০৬:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

শরীর-মন সতেজ রাখতে ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন রাতভর নিয়মমতো আট ঘণ্টা ঘুম হলেও সকালে ওঠার পর শরীরে অজানা ক্লান্তি, মাথা ভারি লাগা ও মনোযোগের ঘাটতির অনুভূতি থাকে। দিন কাটাতে মন চঞ্চল থাকে না, উৎসাহ ও উদ্দীপনাও কমে যায়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় ডায়েটে ছোটখাটো পরিবর্তনই কার্যকর হতে পারে।

চাহিদাসম্পন্ন অফিসের দিন হোক বা ছুটির সকালে, যদি ঘুম থেকে উঠেই শরীর ক্লান্তি বয়ে নিয়ে আসে, তবে বোঝা উচিত শরীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারছে না। আয়রনের অভাব, অনিয়মিত বা পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাসও এর পেছনের কারণ হতে পারে। তবে আশঙ্কার কিছু নেই- খাদ্য তালিকায় সঠিক খাবার অন্তর্ভুক্ত করলেই শরীর ফিরে পাবে নতুন শক্তি ও উদ্যম।

ঘুম নষ্ট হওয়ার কারণগুলো হল

১। ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে ঘুম গভীর স্তরে পৌঁছাতে পারে না। এতে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না।

২। স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যেখানে ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য। এতে ঘুম বারবার ভেঙে যায় এবং সকালে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা ঝিমুনি দেখা দেয়।

৩। বিকেলে ক্যাফেইন গ্রহণ: বিকেল বা রাতে চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক গ্রহণ করলে ঘুমের গুণমান নষ্ট হয়, ফলে ঘুম আসতেও দেরি হয়।

৪। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম: মোবাইল, ট্যাব বা টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমায়, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

৫। ঘুমের সময়সূচিতে অনিয়ম: প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া বা জেগে ওঠা শরীরের প্রাকৃতিক ‘বডি ক্লক’কে ব্যাহত করে, ফলে ঘুমের মান নষ্ট হয়।

ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান ও একই সময়ে জেগে উঠুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন। ঘর যেন ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত থাকে, তা নিশ্চিত করুন। রাতে হালকা ও কম মসলাযুক্ত খাবার খান। সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল পরিহার করুন। ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন অভ্যাস করুন।

যে-সব খাবার দূর করবে ক্লান্তি
কলা: কলা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। ফাইবার, পটাশিয়াম আর কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর এই ফল এনার্জি ড্রিঙ্কের থেকেও কার্যকর। শরীরচর্চার আগে বা পরে খেলে ক্লান্তি দ্রুত কেটে যায়।

ডার্ক চকোলেট: মেজাজ ভালো রাখার সঙ্গী- অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর ডার্ক চকোলেট স্নায়ু সক্রিয় রাখে, ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়ায়। ফলে শরীর শুধু চাঙ্গা নয়, মনও থাকে প্রফুল্ল।

ডিম: ডিমে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাট। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরের ভেতর থেকে শক্তি মেলে, কমে ক্লান্তি।

কাঠবাদাম: ভেজানো বাদাম ভিটামিন ই ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ। এটি ক্লান্তি দূর করে শরীরকে করে চনমনে। তবে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।