আবরার স্মরণে ছাত্রদলের আলোচনা: ‘রক্ত দিয়ে রাজপথে লড়াই করেছে ছাত্রদল’
ঢাকা: শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ ও তার হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতির কারণে তাদের ‘সুপ্ত’ বা ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের কাছাকাছি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ। সভাটি পরিচালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
আবরারের প্রতিবাদকে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করলেন রিজভী
সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আবরার ফাহাদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের কারণে তাকে নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নেও মানুষের ভেতরের প্রতিবাদী চেতনা পুরোপুরি দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। আবরারের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সেই ক্ষোভ বড় আকারে প্রকাশ পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
ছাত্রদলের ভূমিকার প্রশংসা
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মী হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরপরও তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে সরে যায়নি।
তার দাবি, প্রকাশ্যে আন্দোলন করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা ও রক্তপাতের মুখোমুখি হয়েছেন। এ কারণেই সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
‘আবরার হত্যার ঘটনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়িয়েছিল’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার ভিন্নমত প্রকাশের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছিল। তবে ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, আবরারের হত্যাকাণ্ড মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে এর প্রভাব পড়ে।
আবরার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি
অনুষ্ঠানে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল শুরু থেকেই আন্দোলনে ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে নানা বাধা ও নির্যাতনের মধ্যেও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান ছাত্রদল সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ছাত্রদল আপসহীন অবস্থানে থাকবে। একই সঙ্গে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

























