ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাত দফা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে স্পষ্ট করে বলুন: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকা: ১১ দলের ঘোষিত লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার সক্ষম না হলে সেটি স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো উচিত। সরকারের ব্যর্থতার কারণেই লংমার্চের মতো কর্মসূচির প্রয়োজন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

সরকারের পক্ষ থেকে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি কোথায়—সেটিই এখন জনগণের প্রশ্ন। তার মতে, সরকার যদি দাবিগুলো পূরণ করতে না পারে, তাহলে সরাসরি নিজেদের অক্ষমতার কথা জানানো উচিত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা পারছি না’—সরকার এমন কথা বলছে না। বরং সময়ের সঙ্গে সমস্যাগুলো কমার বদলে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ১১ দলের লংমার্চকে তিনি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ সফল করতে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে ১১ দলের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় সভা থেকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনাও সভায় নিন্দার মুখে পড়ে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলের নেতারা।

যেভাবে হবে লংমার্চ

গোলাম পরওয়ার জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে।

এরপর পদ্মা সেতু ও মাওয়া সড়ক হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও ফকিরহাট অতিক্রম করে খুলনায় যাবে গাড়িবহর। রূপসা ব্রিজ পার হয়ে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে লংমার্চের গন্তব্য কুষ্টিয়া।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

লংমার্চের পথে একাধিক স্থানে পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালী চার রাস্তার মোড়, খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাঁচড়া মোড় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড।

গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচি চলাকালে বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ সংযম ও ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ সফল করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অটোরিকশা চালকদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাত দফা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে স্পষ্ট করে বলুন: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় ০২:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা: ১১ দলের ঘোষিত লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার সক্ষম না হলে সেটি স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো উচিত। সরকারের ব্যর্থতার কারণেই লংমার্চের মতো কর্মসূচির প্রয়োজন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

সরকারের পক্ষ থেকে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি কোথায়—সেটিই এখন জনগণের প্রশ্ন। তার মতে, সরকার যদি দাবিগুলো পূরণ করতে না পারে, তাহলে সরাসরি নিজেদের অক্ষমতার কথা জানানো উচিত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা পারছি না’—সরকার এমন কথা বলছে না। বরং সময়ের সঙ্গে সমস্যাগুলো কমার বদলে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ১১ দলের লংমার্চকে তিনি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ সফল করতে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে ১১ দলের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় সভা থেকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনাও সভায় নিন্দার মুখে পড়ে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলের নেতারা।

যেভাবে হবে লংমার্চ

গোলাম পরওয়ার জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে।

এরপর পদ্মা সেতু ও মাওয়া সড়ক হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও ফকিরহাট অতিক্রম করে খুলনায় যাবে গাড়িবহর। রূপসা ব্রিজ পার হয়ে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে লংমার্চের গন্তব্য কুষ্টিয়া।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

লংমার্চের পথে একাধিক স্থানে পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালী চার রাস্তার মোড়, খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাঁচড়া মোড় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড।

গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচি চলাকালে বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ সংযম ও ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ সফল করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অটোরিকশা চালকদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন